যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে মারা গেছে প্রবাসী বাংলাদেশি এক পরিবারের দুই ভাই। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ছোট ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিবারটিতে নেমে এসেছে শোকের গভীর ছায়া।
দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তাদের বাবা-মা। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বাবা শাহ আসাদ। আর দুই ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে স্বজনদের পরিবেশ।
নিহত দুই ভাই হলো শাহ আদ্রী (২৬) ও শাহ ওয়াদি (১০)। বড় ভাই আদ্রী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ছোট ভাই ওয়াদি ছিল স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সম্ভাবনাময় বড় ছেলের পর অল্প বয়সী ছোট ছেলেকেও হারিয়ে পরিবারটি এখন গভীর শোকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
নিহতের পরিবার স্বজনরা জানান, গত ৩ অক্টোবর কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান বড় ভাই শাহ আদ্রী। তাঁর মৃত্যুর ১১ দিন পর গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের মন্টিফিওর হাসপাতালে মারা যায় ছোট ভাই শাহ ওয়াদি।
পরপর দুই ভাইয়ের এমন মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত স্বজনদের পাশাপাশি দেশের গ্রামের বাড়িতেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জন্য এ শোক মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই সন্তানকে হারিয়ে বাবা শাহ আসাদ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মা দুই ছেলেকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। মেজো ছেলে শাহ আয়ানকে কোলে নিয়ে বিলাপ করছেন তিনি।
নিহত দুই ভাইয়ের পৈতৃক বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে। পরিবারটি প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও গ্রামের মানুষের সঙ্গে পরিবারটির সম্পর্ক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহতদের মামাতো ভাই তাজুল বাহার জানান, গত ৩ অক্টোবর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বড় ভাই আদ্রীর মৃত্যু হয়। এর ১১ দিন পর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছোট ভাই ওয়াদি।
এদিকে, শাহ আসাদের মামাতো ভাই কামরুল হাসান দুই ভাইয়ের জন্য এলাকাবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। একই পরিবারের দুই সন্তানের এমন অকালমৃত্যুর ঘটনায় স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরপর দুই সন্তানকে হারানোর এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবারটির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।