নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক চিকিৎসককে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নাঈম ইসলাম (২৫) নামে এক বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বেসরকারি মালিকানাধীন একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক নাঈম ইসলাম আলট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট নিতে হাসপাতালে আসেন। এ সময় তিনি চিৎকার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। বিভাগে দায়িত্ব পালনরত রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডল তাঁকে বাধা দিলে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকের চিৎকার শুনে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে নাঈমকে আটক করেন। পরে তাঁকে নীলফামারী সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ হেল মাফি বলেন, “চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় বেসরকারি মালিকানাধীন একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা মামলা দায়ের করব।”
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগ রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আলট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঠিক কী কারণে ঘটনার সূত্রপাত, অভিযুক্তের বক্তব্য এবং চিকিৎসকের আঘাতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।