জামালপুরের মাদারগঞ্জে ইট তৈরির মোল্ডিং মেশিনের চাকায় পিষ্ট হয়ে লিয়াকত আলী (৫৫) নামের এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারী এলাকায় ভাই ভাই ব্রিকস নামের একটি ইটভাটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত লিয়াকত আলী উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের উত্তর জোড়খালী এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি গুনারীতলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি বর্তমান কমিটিরও সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ইটভাটায় মাটি দিয়ে কাঁচা ইট তৈরির কাজ চলছিল। এ সময় অসাবধানতাবশত চলন্ত মোল্ডিং মেশিনের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন লিয়াকত আলী। পরে ভাটার শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. তরিকুল ইসলাম রনি বলেন, লিয়াকত আলীকে জরুরি বিভাগে আনার পর পরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের ভাতিজা ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিক খাদেমুল ইসলাম বলেন, লিয়াকত আলী তাঁর চাচা। তিনি অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সবাই শোকাহত। সোমবার বিকেল তিনটায় নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
ইটভাটা কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, লিয়াকত আলী ভাটার মালিক আলহাজ নজরুল ইসলামের আপন ভাগনে ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই ইটভাটার রক্ষণাবেক্ষণ ও সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, লিয়াকত আলী অত্যন্ত ভালো মানুষ ও দলের নিবেদিতপ্রাণ সক্রিয় নেতা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা শোকাহত।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিয়াকত আলীর মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।