রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আব্দুস সালাম (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গভীর রাতে নগরীর প্যারামেডিক্যাল এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি বলে জানা গেছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজীউর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
একই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এবং কথিত ‘মব কালচার’-এর প্রতিবাদে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজশাহীর সর্বস্তরের চিকিৎসক সমাজ’ ও রামেবির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদের ব্যানারে দুটো মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল
ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন দুটৈ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রামেবি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসেন ঘটনার দিন (৭ অক্টোবর) রাতে রাজপাড়া থানায় একটি মামলা করেন। রাতেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলার ভিত্তিতেই আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রামেবির উপ-রেজিস্ট্রার মো. মোফাকখারুল ইসলাম জানান, ওই দলটি উপাচার্যকে কোনো কিছু না পড়েই একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে চাপ দেয়। এ সময় তার ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসেন বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি নিয়মিত কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জানালেও তাকেও আরেকটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্ৰহণকারীরা বলেন, “আমাদের রোগীদের চিকিৎসা ও অপারেশন করার কথা। অথচ আজ আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা স্বাস্থ্যসেবায় একটি সুষ্ঠু পরিবেশ চাই এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
রামেবির সেকশন অফিসার মব ভায়োলেন্সে আহত নাজমুল বলেন, ভিসি কে হবে, কে দায়িত্বে থাকবে সেটা সরকারের নীতি-নির্ধারকদের বিষয়। কিন্তু আমরা চাই কর্মস্থলে ভয়-ভীতিহীন ভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে। এভাবে মব ভায়োলেন্স সৃষ্টি করে সরকারি কার্যালয়ে ভীতির সঞ্চার করার বিষয়টি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, মব ভায়োলেন্স ঘটনার সময় রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরীফুজ্জামান শামীমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রবেশ করে। ওই দলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আল মোস্তাক শাহীন, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল এবং জিয়া মঞ্চের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে বুলবুল ও লাল্টু ছিলেন বলে কর্মকর্তারা জানান।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. তাসমিয়া আক্তার বলেন, একটি মব তৈরি করে স্যারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা চাই না ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা চিকিৎসককে এভাবে অপমানিত হতে হয়। জাওয়াদুল স্যার একজন অত্যন্ত ভালো মানুষ। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”
ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহসান বলেন, একজন আন্তরিক চিকিৎসক ও শিক্ষককে মব তৈরি করে অন্যায় করা হয়েছে। এতে চিকিৎসক সমাজ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
উল্লেখ্য গতকাল মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বেলা সাড়ে ১১টায় ২০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় অধ্যাপক জাওয়াদুল হক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নির্মাণকাজ নিয়ে ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিচ্ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, দলটি উপাচার্য ও তার ব্যক্তিগত সহকারীর স্বাক্ষর করা দুটি পদত্যাগপত্র নিয়ে যায়। একই সঙ্গে উপাচার্যের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপও নিয়ে নেওয়া হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা দেখতে পান, কার্যালয়ের সিসিটিভি সরঞ্জাম খুলে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং কয়েকটি কক্ষ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
অধ্যাপক জাওয়াদুল হক জানান যে, তার কার্যালয়ে প্রবেশকারীদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে হয়েছে। অন্যরা ছিলেন বহিরাগত এবং তাদের পেছনে রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমর্থন ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, তাকে অভিযোগ করা হয় যে তিনি স্থানীয় ঠিকাদারদের পরিবর্তে ঢাকাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজের চুক্তি দিয়েছেন। এ সময় তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগানও দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দলটি জোর করে তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়, তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেয় এবং পরে কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানান এবং অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
