নেত্রকোণা কেন্দুয়ায় উপজেলায় নওপাড়ার ধনচাপুরে ইসলাম উদ্দিন (৭০) হত্যা মামলা এফআইআর হওয়ার চার দিন পরও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হননি। এ সময় বাদীপক্ষকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আসামিপক্ষের বাড়িঘরে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা সাজিয়ে পাল্টা মামলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমতাবস্থায় চড়ম নিরাপত্তা হীনতার অভিযোগ তোলেন বাদী পক্ষের লোকজন।
মামলার বাদী দিলুরা বেগমের দাবি, প্রথমে কেন্দুয়া থানায় মামলা নেওয়া হয়নি। পরে আদালতে মামলা করা হলে আদালতের নির্দেশে ২৬ সেপ্টেম্বর কেন্দুয়া থানায় এটি এফআইআরভুক্ত হয় (মামলা নম্বর ২৯)। দণ্ডবিধির ১৪৭, ৪৪৭, ৩০২, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় করা এই মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, এফআইআরের পরও আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। নিহতের ছেলে হোসেন মিয়া অভিযোগ করেন, ২৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে আসামিপক্ষ নিজেরাই নিজেদের বাড়িঘরে আগুন ও ভাঙচুর চালিয়েছে, যাতে বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে লুটপাট ও ভাঙচুরের পাল্টা মামলা দেওয়া যায়।
২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিপক্ষের কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন এবং একটি গোয়ালঘরে আগুন লাগার দৃশ্য দেখা যায়। তবে এসবের সঙ্গে কারা জড়িত, তা সরেজমিনে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মামলার ১ নম্বর আসামি আজিজুল হক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি হয়েও তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না এবং স্থানীয় কুচক্রী মহলের যোগসাজশে তাঁকে মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তখন তিনি তার ছেলে ও মেয়ের বিয়ের আয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন।
আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “ইসলাম উদ্দিন হত্যা মামলার তদন্ত চলমান। দৃশ্যমান এটা একটা হার্ট অ্যাটাক এর ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তাই লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মামলা হলেই আসামি ধরতে হবে এমন কোন কথা নেই ।
আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন এবং এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। “অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” যোগ করেন তিনি। এদিকে নিহতের পরিবার দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।