× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে ২০০০ জনেরও বেশি হৃদরোগীর এনজিওপ্লাস্টি/স্টেন্টিং সম্পন্ন

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৫ পিএম । আপডেটঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৩০ পিএম

বন্দরনগরীর সর্ববৃহৎ হাসপাতাল এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম অত্যন্ত জটিল এবং ঝুকিপূর্ণ রোগীসহ ২০০০ জনেরও বেশি হৃদরোগীর  এনজিওপ্লাস্টি/ স্টেন্টিং (পিটিসিএ) চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই সাফল্য চট্টগ্রামসহ আশপাশের অঞ্চলের মানুষের জন্য বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে এভারকেয়ার হসপিটালের প্রচেষ্টার প্রমাণস্বরূপ।  

এই সাফল্য উদযাপনে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম আজ একটি প্রেস ইভেন্ট ও র‍্যালি আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উদযাপন করেছে। ‘ডোন্ট মিস অ্যা বিট’ প্রতিপাদ্যের সাথে প্রেস ইভেন্ট হৃদরোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এবং উন্নত কার্ডিয়াক সেবা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। 

সেসময় উপস্থিত ছিলেন এভারকেয়ার হসপিটালস, বাংলাদেশ (ঢাকা ও চট্টগ্রাম)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ডা. রত্নদ্বীপ চাস্কার; বিনয় কউল, এভারকেয়ার হসপিটালস চট্টগ্রাম এর চিফ অপারেটিং অফিসার; এভারকেয়ার হসপিটালস চট্টগ্রাম এর মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের ডিরেক্টর ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির; এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসাল্টেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ডা. শেখ মোহাম্মদ হাছান মামুন; সিনিয়র কনসাল্টেন্ট ডা. জহির উদ্দিন মাহমুদ ইলিয়াছ; সিনিয়র কনসাল্টেন্ট ডা. মো: তারিক বিন আব্দুর রশিদ; অ্যাটেন্ডিং কনসাল্টেন্ট ডা. সমীর কুমার পাল; অ্যাটেন্ডিং কনসাল্টেন্ট ডা. রাকিব চৌধুরী সহ হসপিটালের অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। 


হৃদরোগের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া, যা ধারাবাহিকভাবে দিয়ে আসছে হসপিটালটি। অনুষ্ঠানে ৬০০০ এর বেশি ক্যাথ প্রসিডিউর চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এবং হৃদরোগের চিকিৎসায় এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামের সক্ষমতা সম্পর্কে চিকিৎসকবৃন্দ কথা বলেন।

 

বক্তব্যকালে এভারকেয়ার হসপিটালস, বাংলাদেশ (ঢাকা ও চট্টগ্রাম)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ডা. রত্নদ্বীপ চাস্কার বলেন, “দুই হাজারেরও বেশি রোগীকে সেবা দিতে পেরে আমরা গর্বিত। রোগীদের আস্থা ও আমাদের পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই অর্জনের মূল শক্তি। ভবিষ্যতেও আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”


কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসাল্টেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ডা. শেখ মোহাম্মদ হাছান মামুন বলেন, “এখন পর্যন্ত ২ হাজারেরও বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। রোগীরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এই পথচলায় আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাই তাদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালো করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।” 


সিনিয়র কনসাল্টেন্ট ডা. জহির উদ্দিন মাহমুদ ইলিয়াছ বলেন, “বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অনিয়মিত স্পন্দনের মতো উপসর্গ অবহেলা করা উচিৎ নয়। নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করা গেলে জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। উচ্চ-রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, ধূমপানসহ বংশগত কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি দৈনন্দিন জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, ধূমপান বর্জন, পর্যাপ্ত ঘুম ইত্যাদির মাধ্যমে হার্ট সুস্থ রাখাও সম্ভব। সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা কঠিন কিছু নয়।” 


সিনিয়র কনসাল্টেন্ট ডা. মো: তারিক বিন আব্দুর রশিদ বলেন, “হৃদরোগ এখন কেবল বয়স্কদের সমস্যা নয়, যেকোন বয়সেই এটি দেখা যাচ্ছে, যা ভীষণ উদ্বেগজনক। কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গও বোঝা যায় না, আবার কিছু ক্ষেত্রে রোগী বা স্বজনরা তা অবহেলা করে যান। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো সর্বোত্তম। যারা আগে থেকেই হৃদরোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে ওষুধ চালিয়ে যাওয়া ও নিয়মিত ফলো-আপ নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।” 


এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশ-এর মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের ডিরেক্টর ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, “এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশ সবসময় চেষ্টা করে উন্নত ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা-সেবা নিশ্চিত করতে। প্রতিটি মানুষ হার্টের অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকুক এবং প্রয়োজনে সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করুক ও সুস্থ থাকুক – এটিই আমাদের কাম্য।” 

অ্যাটেন্ডিং কনসাল্টেন্ট ডা. সমীর কুমার পাল বলেন, “অনেক রোগী চিকিৎসার পর একটু ভালো অনুভব করলে ওষুধ বন্ধ করে দেন বা ফলো-আপে আসেন না। এক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে, হৃদরোগের চিকিৎসা একবারের ব্যাপার নয়, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া। পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর পরীক্ষা করালেই সুস্থতা ধরে রাখা সম্ভব।” 


অ্যাটেন্ডিং কনসাল্টেন্ট ডা. রাকিব চৌধুরী বলেন, “হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ বুকে তীব্র চাপ বা ব্যথা শুরু হলে অনেকে ভাবেন একটু বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। তবে সেটি বিপদ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সচেতন হতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।” 

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে র‍্যালিটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে, যার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.