× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬

হৃদরোগ সচেতনতায় পেশেন্ট ফোরাম আয়োজন করেছে এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২৯ পিএম

হৃদযন্ত্র থেমে গেলে থেমে যায় জীবন। তবে হৃদরোগের অনেক ঝুঁকি ও উপসর্গ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে গুরুতর পরিণতি এড়ানো সম্ভব। এই বার্তাকে সামনে রেখে বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা আয়োজন করে একটি র‍্যালি এবং বিশেষ পেশেন্ট ফোরাম- এর। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডোন্ট মিস এ বিট’ বা ‘কোনো হৃদস্পন্দনকে উপেক্ষা নয়’ এর মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং সবার জন্য মানসম্মত হৃদরোগ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে এভারকেয়ার হসপিটালস, বাংলাদেশ- এর গ্রুপ মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. আরিফ মাহমুদ সহ হাসপাতালের কার্ডিওলজিস্ট, কর্মকর্তা ও রোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

পেশেন্ট ফোরামে বিশেষজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টরা জানান, হৃদরোগ সবসময় স্পষ্ট লক্ষণ নিয়ে আসে না। বুকে ব্যথা বা চাপ, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কিংবা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান এবং পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রয়োজন আরও বেশি। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই জটিলতা কমানো এবং জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে কার্ডিওলজিস্টরা সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ কমানো, ধূমপান ত্যাগ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। হৃদরোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় মা ও শিশুর হৃদস্বাস্থ্য। জন্মগত হৃদরোগ পরিকল্পিত গর্ভধারণের ৩ মাস আগে এমএমআর টিকা, ডায়াবেটিস মেলাইটাস নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং গর্ভাবস্থায় টেরাটোজেনিক ওষুধ পরিহারের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি জন্মগত হৃদরোগ দ্রুত শনাক্ত করতে উপযুক্ত ক্ষেত্রে ফিটাল ইকোকার্ডিওগ্রাফির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। শিশুদের হৃদরোগের ঝুঁকি ও প্রাথমিক পর্যায়ে তা শনাক্ত করার বিষয়েও অভিভাবকদের সচেতন করা হয়। জন্মের পর থেকেই দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বয়স অনুযায়ী ওজন না বাড়া, ত্বক বা ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া এবং বারবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া— হতে পারে জন্মগত হৃদ্‌রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ ও উপসর্গ হতে পারে।

অনুষ্ঠানে রোগীদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টরা সরাসরি মতবিনিময় করেন। রোগীরা হৃদরোগ, চিকিৎসা, জীবনযাপন ও ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেন। এ সময় কার্ডিওলজিস্টরা বলেন, আধুনিক ও বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়াই একমাত্র পথ নয়; বাংলাদেশেও এখন উন্নত কার্ডিয়াক চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা বিভিন্ন কর্পোরেট অফিস ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিনামূল্যে ইসিজি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, প্রাথমিক পর্যায়ে সম্ভাব্য হৃদরোগ শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে উৎসাহিত করা হয়।

এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি,  ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল  পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি, কার্ডিওথোরাসিক অ্যান্ড ভাসকুলার সার্জারি এবং হার্ট ফেইলিওর অ্যান্ড অ্যারিদমিয়া এই বিশেষায়িত সেবাগুলোর সমন্বয়ে হৃদরোগীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট এবং সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতালটি হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সময়মতো রোগ নির্ণয় ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বিশ্ব হার্ট দিবসের বার্তাও তাই স্পষ্ট হৃদযন্ত্রের যত্নে অপেক্ষা নয়, সচেতনতাই হতে পারে জীবন রক্ষার প্রথম পদক্ষেপ।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.