কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ ও চাকরিপ্রত্যাশীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে নীলফামারীতে দিনব্যাপী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন খাতের ১০টি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অংশ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে চাকরির যোগ্যতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নীলফামারী সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রাঙ্গণে এ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) নিয়াজ ভুঁইয়া।
মেলায় টিটিসি থেকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণ-তরুণী ছাড়াও স্থানীয় চাকরিপ্রত্যাশীরা অংশ নেন। সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে চাকরিপ্রার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের স্টলে প্রার্থীরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কারিগরি দক্ষতার তথ্য তুলে ধরে সিভি জমা দেন।
চাকরিপ্রার্থীরা জানান, সাধারণত নিয়োগের জন্য প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন ও যোগাযোগ করতে হয়। কিন্তু চাকরি মেলায় একই জায়গায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সহজ হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি নেন। তবে প্রশিক্ষণ শেষে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া অনেকের জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় প্রশিক্ষিত জনবল ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতেই চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
তাঁদের মতে, মেলার মাধ্যমে একদিকে যেমন দক্ষ জনবল খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো, অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীরাও নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা যাচাই করতে পারছেন। এতে প্রশিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নীলফামারী সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাসুদ রানা, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, টিটিসির চীফ ইনস্ট্রাক্টর মশিউর রহমান, ইনস্ট্রাক্টর আব্দুল মতিন ও ইনস্ট্রাক্টর রেজওয়ান হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী এ চাকরি মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীদের সিভি সংগ্রহ ও প্রাথমিকভাবে যাচাই করছে। মেলার মাধ্যমে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি যোগাযোগ ভবিষ্যতে আরও কার্যকর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।