ভরা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না পেয়ে নোয়াখালীর তিনটি উপকূলীয় উপজেলার অন্তত ১০ হাজার জেলে পরিবার চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। জেলার হাতিয়া, সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জের জেলেরা প্রতি বছর দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ট্রলার ও জাল সাজিয়ে সাগরে যান। আশা থাকে ইলিশ বেচে ঋণ শোধ করবেন, কিন্তু শ্রাবণ ও ভাদ্র পার হয়ে আশ্বিন মাস এলেও ট্রলার ভরছে না মাছে।
স্থানীয় জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নদীতে বা সাগরে বর্তমানে যে সামান্য পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে ট্রলারের জ্বালানি খরচ ও মাঝিমাল্লাদের দৈনন্দিন মজুরি তোলাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধ করা তো দূরের কথা, নিত্যদিনের সংসার চালানোই এখন তাঁদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ঘাটের চিত্রে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী বর্তমানে জেলহাজতে থাকায় তাঁর নিয়ন্ত্রিত চাঁদাবাজ বাহিনী আত্মগোপনে চলে গেছে। ফলে ঘাটে ঘাটে চাঁদা আদায় বন্ধ হলেও মাছের আকালের কারণে উপকূলের অভাব-অনটন কমেনি।
হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের আড়তদাররা জানান, সাগরে গিয়ে জেলেরা প্রায় সময় খালি হাতে ফিরে আসছেন। আড়তে ইলিশের সরবরাহ অনেক হওয়াযর কারনে বাজারে দাম এখন তুলামুলূক বেশী।
স্বাভাবিক সময়ে নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, চাটখিল, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সুবর্ণচরের স্থানীয় বাজারগুলোতে এই মৌসুমে ইলিশের বাজারে রমরমা অবস্থা থাকে, যা পুরো জেলার আমিষের চাহিদা মেটায়। তবে চলতি মৌসুমে চরম সংকটের কারণে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
ইলিশ না পাওয়ার প্রধান কারণ জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন, নদীর মোহনায় ডুবোচর সৃষ্টি এবং দীর্ঘ সময় অনাবৃষ্টির কারণে ইলিশ চলাচলের পথ ব্যাহত হচ্ছে। যার প্রভাবে নদীতে মাছ কম আসছে।