তিতবেগুন গাছের শক্ত শিকড়ের সঙ্গে উন্নত জাতের টমেটোর ডগা জুড়ে দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশেষ ‘গ্রাফটিং চারা’। রোগবালাই সহনশীল ও উচ্চফলনশীল হওয়ায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে উৎপাদিত এই চারার কদর এখন দেশজুড়ে।
স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে কুমিল্লা, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ কিংবা পটুয়াখালীর মতো দূরদূরান্তের জেলায় যাচ্ছে এখানকার চারা। প্রতি মৌসুমে প্রায় ৭০ লাখ চারা বিক্রির মাধ্যমে এ উপজেলায় লেনদেন হচ্ছে অন্তত পাঁচ কোটি টাকা।
উপজেলার আদমপুর, জালালপুর, বনগাঁও, কান্দিগাঁও, মধ্যগাঁও ও নাজাতকোনা গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে নার্সারিগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। নিখুঁত হাতে ব্লেড দিয়ে তিতবেগুনের গোড়ার অংশের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে টমেটোর ওপরের অংশ। বিশেষ ক্লিপ বা পলিথিন দিয়ে বাঁধা এই চারা কয়েকদিনের মধ্যেই একীভূত হয়ে রূপ নিচ্ছে শক্তিশালী উদ্ভিদে।
বার্ষিক উৎপাদন ৬৫ থেকে ৭০ লাখ চারা, চারার বাজারদর প্রতি পিস ১২ থেকে ১৫ টাকা, মৌসুমি লেনদেন হচ্ছে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা, দিনে এক থেকে বারোশ চারা জোড়া লাগাতে পারেন একজন দক্ষ কারিগর।
নার্সারি উদ্যোক্তা ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুনো তিতবেগুন বা বনবেগুনের শিকড় অত্যন্ত শক্ত এবং পানিসহিষ্ণু। সাধারণ টমেটো গাছ বর্ষায় বা জলাবদ্ধতায় ঢলে পড়া (উইল্টিং) রোগে মারা গেলেও গ্রাফটিং করা গাছে এ ঝুঁকি নেই বললেই চলে।
স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুল করিম বলেন, "সাধারণ গাছে যেখানে ৫ থেকে ১০ কেজি টমেটো মেলে, সেখানে গ্রাফটিং করা একেকটি গাছ থেকে ফলন আসে ২০ থেকে ২৫ কেজি। ভারি বৃষ্টিতেও চারা নষ্ট হয় না। আট থেকে দশটি জেলার কৃষকরা মৌসুম শুরুর আগেই অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখেন, চাহিদা এত বেশি যে সময়মতো সরবরাহ করতেই হিমশিম খেতে হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো আবাদ করছেন ৪৮০ জন কৃষক। তিনি বলেন, "কমলগঞ্জের উৎপাদিত ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং চারা স্থানীয় প্রয়োজন মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। এক মৌসুমেই এ খাত থেকে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে। আগ্রহী চাষিদের কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।