রংপুরে আইনজীবী সমিতিতে সদস্য অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহকালে দৈনিক সংবাদ সারাবেলার প্রতিনিধি ও দৈনিক দাবানলের মহানগর প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন অপু হেনস্থার শিকার হয়েছেন। এসময় আইনজীবীরা তাঁর ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে এবং বুম মাটিতে ফেলে দেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনি এই হেনস্থার শিকার। এ ঘটনার পরপরই সাংবাদিকরা সেখানে ছুটে যান এবং আইনজীবী সমিতির সংবাদ বয়কটের ঘোষণা দেন।
হেনস্থার শিকার আলমগীর হোসেন অপু জানান, নবীন আইনজীবীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় একজন আইনজীবী ধাক্কাধাক্কি করেন এবং ভিডিও করার সময় ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে বুম মাটিতে ফেলে দেন। আমি এ ঘটনায় মর্মাহত হয়েছি।
নবীন আইনজীবী সুত্রে জানা যায়, বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০৮ জনের মধ্যে ৪৫ জনকে সাধারণ এবং বাকি ৬৩ জনকে ভোটাধিকারহীন ‘সহযোগী সদস্য’ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রংপুর আইনজীবী সমিতি। একই সাথে সমিতিতে ভর্তির ফি পূর্বে ৫০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বয়সভেদে ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫ বছরের বেশি বয়সি আইনজীবীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা কখনও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন।
এই বিধিবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় এবং ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে মুচলেকা নেওয়ার প্রতিবাদে নবীন আইনজীবীরা আন্দোলন করছেন।
নবীন আইনজীবী আসমিন ফারহা আঁখি জানান, আগে ভর্তি ফি ৫০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে বয়সভেদে তা ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ৩৫ বছরের বেশি বয়সি আইনজীবীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে কখনো ভোটাধিকার দাবি না করেন। এটা নবীন আইনজীবীদের প্রতি বৈষম্যমুলক আচরণ করা হচ্ছে। আমরা এটা মানি না। আমাদের দাবী মানা না হলে আমরা আমরণ অনশনে যাবো।
রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন জানান, নবীন আইনজীবীদের বিষয়গুলো নিয়ে সমিতিতে আলোচনা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে সিটি প্রেসক্লাব রংপুরের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মানিক বলেন, আইনজীবীদের চলমান আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্বপালনের সময় দৈনিক সংবাদ সারাবেলার জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক দাবানলের মহানগর প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন অপুকে হেনস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আইনজীবী সমিতিকে জানানো হয়েছে। তারা এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে।