ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নে সরকারি বিধিমালা অমান্য করে নিজ বসতবাড়িতে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সার অবৈধভাবে মজুতের অভিযোগ উঠেছে খুচরা সার ডিলার (সাব-ডিলার) মো. আফাজউদ্দীন মন্ডলের বিরুদ্ধে। কলামনখালী বাজারের অনুমোদিত কেন্দ্র ছেড়ে তিনি নিজ বসতবাড়ির একটি কক্ষে গড়ে তুলেছেন পটাশ (এমওপি), ইউরিয়া ও ডিএপি সারের বড় মজুত।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কলামনখালী বাজারে ডিলারের একটি গুদাম ভাড়া নেওয়া ছিল। ভাড়ার চুক্তি শেষ হওয়ার অজুহাতে সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিনি গুদামটি ৪নং ওয়ার্ডের কলামনখালী নিজ বসতবাড়িতে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে কলামনখালী বাজারের বিক্রয়কেন্দ্রে নামমাত্র সার রেখে মূল মজুত রাখা হয়েছে বাড়িতে, যার বড় অংশই চলতি আমন মৌসুমের অতি প্রয়োজনীয় পটাশ সার। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই এই মজুত গড়ে তোলা হয়েছে। একাধিক কৃষক জানান, ভোররাতে গোপনে 'নসিমন' ও 'আলমসাধু'যোগে বসতবাড়ির মজুত থেকে সার সরিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকা বা সিন্ডিকেটের কাছে পাচার করা হচ্ছে।
বসতবাড়িতে অবৈধভাবে সার মজুতের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ডিলার মো. আফাজউদ্দীন জানান, কলামনখালী বাজারের অনুমোদিত গোডাউনের ভাড়ার চুক্তি শেষ হওয়ায় তিনি সার নিজ বসতবাড়িতে এনে রেখেছেন। বরাদ্দকৃত সারের মধ্যে অবিক্রীত অংশই সেখানে মজুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতি মাসে বরাদ্দ পাওয়া সারের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ বস্তা পটাশ সার অবিক্রীত থেকে যায়। মূলত সেই সারগুলোই বাড়িতে রাখা হয়েছে। তবে কৃষকদের প্রয়োজন হলে বসতবাড়ি থেকেই তা সরবরাহ করা হয় এবং নিজস্ব নসিমনে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬’ ও ডিলার নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত গুদাম বা বিক্রয়কেন্দ্র ছাড়া অন্যত্র সার রাখা বেআইনি। নিয়মানুযায়ী, গোডাউন স্থানান্তরে উপজেলা কৃষি কমিটির লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এছাড়া বিক্রয়কেন্দ্রে দৈনিক বেচাকেনা ও মজুতের রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং সেখান থেকেই সার বিতরণের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে অনুমোদিত দোকানের বাইরে নিজ বসতবাড়িতে সার রাখা, বিক্রি করা কিংবা রাতে পরিবহন করা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ, অবৈধ মজুতদারি ও কালোবাজারির শামিল।
অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, অনুমোদিত গুদাম ছাড়া বসতবাড়িতে সার রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে অভিযুক্ত সাব-ডিলারের সাফাই গেয়ে তিনি দাবি করেন, ১ দিনের মধ্যে সার সরানোর লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ওই ডিলার এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি অবগত আছেন।
বেআইনি মজুতে প্রশাসনের 'অবগত থাকা' নিয়ে প্রশ্ন উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রাণী সরকার জানান, সাবেক ইউএনও’র সময়ে গুদাম সংস্কারের কথা বলে ১ দিনের সময় নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। বসতবাড়িতে সার রাখা সম্পূর্ণ অবৈধ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তের ডিলারশিপ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
