চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ১ নম্বর সৈয়দপুর ইউনিয়নের মিরেরহাট বাজারে একটি পাবলিক টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ওপর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দুটি কনটেইনার স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। কনটেইনার স্থাপনের জায়গার প্রকৃত মালিকানা নিয়েও বাজার পরিচালনা কমিটি ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ভিন্ন দাবি উঠেছে। এই বিরোধের জেরে বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সীতাকুণ্ড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
বাজার পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মুসকান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল (পিতা: মো. মহিউদ্দীন, সাং: জাফরনগর) গত মে মাসে মিরের হাট বাজারে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য বাজার কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেন। কমিটি বিষয়টি নীতিগতভাবে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করলেও পরবর্তীতে বাজারের উত্তর পাশে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত একটি পাবলিক টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ওপর দুটি কনটেইনার স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানাজানি হলে বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী আপত্তি জানিয়ে কনটেইনার দুটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। বাজার কমিটির দাবি, এ নিয়ে কথা বলতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাদের বিরোধ বাধে এবং অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে।
কমিটির ভাষ্যমতে, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ইউনিয়ন পরিষদের কাছ থেকে বাজারের সীমানার বাইরে একটি জায়গা ব্যবহারের ব্যবস্থা করেন। তবে ওই চুক্তি সম্পাদনের পরও সেফটি ট্যাংকের ওপর স্থাপিত কনটেইনার দুটি সরানো হয়নি বলে অভিযোগ কমিটির।
বাজার পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তারা জানান, পাবলিক টয়লেটটি বর্তমানে অব্যবহৃত থাকলেও ভবিষ্যতে তা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সেফটি ট্যাংকের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা সংস্কারকাজের প্রয়োজন যেকোনো সময় হতে পারে। এ অবস্থায় সেফটি ট্যাংকের ওপর ভারী কনটেইনার স্থাপন করা হলে স্থাপনাটির ক্ষতি এবং জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মোহাম্মদ জামশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল করিম লিটন ও সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন হোড়নের স্বাক্ষরে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনে কনটেইনার দুটি নির্ধারিত লিজ বা ভাড়াকৃত স্থানে স্থানান্তর এবং বাজারের জনসাধারণের ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব দিদারুল হক বলেন, বাজার পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন তিনি পেয়েছেন। তবে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দায়িত্ব পালন করছেন বিধায় তাঁর নির্দেশনা ছাড়া এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
ইউপি সচিবের দাবি, কনটেইনার যে জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে সেটি ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা। সেখানে মুসকান এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে লিজ নয়, বরং ভাড়া হিসেবে একটি চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে, যা ইউএনওর নির্দেশনা অনুযায়ী হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইউনিয়ন পরিষদের এই দাবির সঙ্গে একমত নন বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ জামশেদ আলম। তাঁর দাবি, মিরেরহাট বাজারের পাবলিক টয়লেটটি যে জায়গায় অবস্থিত, সেটিও বাজারের জায়গার অন্তর্ভুক্ত এবং পাবলিক টয়লেটের পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা শুরু হয়েছে। ফলে কনটেইনার স্থাপনের জায়গাটি সম্পূর্ণভাবে ইউনিয়ন পরিষদের—এই দাবি সঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন।
জামশেদ আলম বলেন, জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা ও সীমানা নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনে সরেজমিন পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের জন্যই প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
কনটেইনার সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধকে কেন্দ্র করে হুমকির অভিযোগও উঠেছে। বাজার কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মোহাম্মদ জামশেদ আলম গত ২ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি নম্বর-১০০)।
জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, কনটেইনার দুটি সরিয়ে নেওয়ার কথা বলায় মো. রুবেল তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন, মারধরের চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেও জিডিতে উল্লেখ করেন। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল করিম লিটনও তাঁর প্রতি দুর্ব্যবহার ও হুমকির অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, "মিরের হাট বাজার কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মোহাম্মদ জামশেদ আলম বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি, এ বিষয়ে তিনি একটি জিডিও করেছেন, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. রুবেলের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন সুইচড অফ পাওয়া যায়।
বাজার পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, মুসকান এন্টারপ্রাইজের বৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে জনসাধারণের ব্যবহৃত স্থাপনার নিরাপত্তা, সেফটি ট্যাংকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা ও সীমানা স্পষ্ট করার স্বার্থেই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কনটেইনার দুটি নির্ধারিত ও চিহ্নিত স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছে কমিটি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
