হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হঠাৎ এক চার বছরের শিশুর কান্না। চারপাশের চেনা-অচেনা ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যাওয়া শিশু আবদুল্লাহর সেই আতঙ্কিত মুহূর্ত মুহূর্তেই বদলে যায় পরম নিরাপত্তায়। রবিবার দুপুরে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে টহল ডিউটি করার সময় শিশুটিকে একা কাঁদতে দেখেন কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা।
পিসি সাদেক হোসেনের নেতৃত্বে তাৎক্ষণিকভাবে তৎপর হয়ে ওঠেন এপিসি শফিকুল ইসলাম, আনসার সদস্য শাহাব উদ্দিন ও আব্দুল আওয়াল। তারা শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে শুরু করেন এক মানবিক তৎপরতা। পুরো হাসপাতাল প্রাঙ্গণ জুড়ে মাইকিং ও নিবিড় অনুসন্ধান চালানো হয় আবদুল্লাহর অভিভাবকদের খুঁজে বের করতে।
অবশেষে আসে সেই স্বস্তির মুহূর্ত, যখন শিশুটির স্বজনদের সন্ধান মেলে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ তথ্য যাচাই-বাছাই ও পরিচয় নিশ্চিত করার পর শিশু আবদুল্লাহকে নিরাপদে তার দাদির কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। হারিয়ে যাওয়া নাতিকে ফিরে পেয়ে আনসার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আবেগাপ্লুত দাদি।
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, বরং এমন নিষ্ঠা ও মানবিকতার উদাহরণ প্রায়শই তৈরি করছেন। এই ঘটনা সাধারণ মানুষের কাছে বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার অনন্য প্রতীক হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।