× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মাদকসেবনের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক লিটন সরকারকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, থানায় এজাহার

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী

২৫ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৪ পিএম

মাদক সেবনের অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে নীলফামারীতে সাংবাদিক মো. লিটন সরকারকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জেলা আদালত চত্বরের একটি হোটেলে ঢুকে তাঁকে ঘেরাও করে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করা হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক লিটন সরকারের পক্ষে তাঁর স্ত্রী মোছা. মাতিনা আক্তার নীলফামারী থানায় এজাহার দাখিল করেন। পরে এজাহার পাওয়ার পর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। লিটন সরকার জাতীয় দৈনিক ‘বাংলাদেশ সময়’-এর নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী পৌরসভার বাড়াইপাড়া এলাকায় পুলিশের অভিযানে আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় না নিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে মোটরসাইকেল ও নগদ অর্থ নেওয়া বা বিক্রির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করেন সাংবাদিক লিটন সরকার। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জাতীয় দৈনিক ‘বাংলাদেশ সময়’ ও ‘যমুনা সংবাদ’-এ এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করা হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের জেরে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, গত সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে লিটন সরকার জেলা আদালত চত্বরের সম্রাট হোসেন বাবুর হোটেলের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আফতাবুজ্জামান বিপ্লব, রিঙ্কু ও জহুরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি, লোহার রড, ধারালো খুর ও ছোরাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁকে চারদিক থেকে ঘেরাও করে অতর্কিত হামলা চালান। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আফতাবুজ্জামান বিপ্লব ধারালো খুর দিয়ে তাঁর গলা কাটার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

জীবন বাঁচাতে লিটন সরকার বাম হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করার চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্রটি তাঁর বাম বাহুতে লাগে। এতে গভীর কাটা জখম হয়ে রক্তপাত শুরু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে চিৎকার করতে থাকেন। পরে তাঁর চিৎকার শুনে হোটেলের মালিকসহ উপস্থিত কয়েকজন ও আইনজীবীরা এগিয়ে এসে তাঁকে রক্ষা করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।


এজাহারে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সম্রাট হোসেন বাবু, সুমন, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মো. সেলিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনজীবী আবু মোহাম্মদ সোয়েম (জিপি) ও আসাদুজ্জামান খান রিনো (পিপি)সহ আদালত চত্বরে উপস্থিত আরও কয়েকজন ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।


এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে উপস্থিত লোকজন আহত সাংবাদিককে ইজিবাইকে করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর বাম বাহুতে ধারালো অস্ত্রের গভীর কাটা জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—আফতাবুজ্জামান বিপ্লব (৪০), পিতা আলতাব হোসেন, সাং ঢেলাপির পুলপাড়া, সৈয়দপুর; রিঙ্কু, পিতা অজ্ঞাত, সাং সৈয়দপুর, পেশায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী; এবং জহুরুল ইসলাম (৪৮), পিতা মৃত রহিম বক্স, সাং বাড়াইপাড়া, নীলফামারী। তাঁদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সাংবাদিক লিটন সরকার এজাহারে অভিযোগ করেন, প্রকাশিত সংবাদের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁকে শায়েস্তা ও প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নীলফামারী থানার তদন্ত কর্মকর্তা বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমি বর্তমানে বাইরে আছি। এ কারণে এজাহারের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানি না। অফিসে ফিরে বিষয়টি জেনে বিস্তারিত বলতে পারব।’

নীলফামারীর পুলিশ সুপার বলেন, ‘এজাহার পাওয়ামাত্র মামলাটি আমলে নিয়ে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তে হামলার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে এজাহারে উল্লেখ করা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

এদিকে একজন সাংবাদিকের ওপর পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক লিটন সরকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকদের অনেকে।

তবে এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.