× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বিষাক্ত গ্যাসে আটকে তদন্ত, দুর্ঘটনার মূল স্পট এখনো অধরা

জাহাজের বদ্ধ প্রকোষ্ঠে প্রবেশের ঝুঁকি, অপেক্ষায় ৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল

এম জামশেদ আলম, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০১ পিএম

জাহাজের ভেতরে এখনো বিষাক্ত গ্যাসের তীব্র উপস্থিতি। আর সেই গ্যাসের কারণেই দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানটিতে ঢুকতে পারছেন না তদন্তকারীরা। ফলে জাহাজে বিস্ফোরক বা বিষাক্ত গ্যাসের উৎস কোথায় ছিল, কাটিংয়ের আগে জাহাজটি যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কি না এবং নিরাপত্তাবিধি মানতে কোথায় ঘাটতি ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর আপাতত অন্ধকারেই রয়ে গেছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর তদন্তে নেমেছে একাধিক সংস্থা। তবে জাহাজের অভ্যন্তরে বিপজ্জনক মাত্রায় গ্যাস থাকার কারণে সরেজমিনে মূল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দুর্ঘটনার আলামত, কাটিংয়ের স্থান ও জাহাজের বদ্ধ প্রকোষ্ঠগুলো এখনো তদন্তের বাইরে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করা হলে তদন্তকারীদের জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে গ্যাসের মাত্রা নিরাপদ পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত মূল স্পটে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এতে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ কার্যত থমকে আছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শাখা আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে। এতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিস্ফোরক পরিদপ্তর এবং মেরিন সার্ভেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ দলের মধ্যে রয়েছেন বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসীর আরাফাত খান, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জহির উদ্দিন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার মো. আরাফাত হোসেন এবং মেরিন সার্ভেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, শুরুতে পাঁচ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল কাজ শুরু করেছিল। পরে জাহাজের বদ্ধ প্রকোষ্ঠে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ঝুঁকি নিয়ে জাহাজের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, মূল ঘটনাস্থলে প্রবেশ সম্ভব না হলেও দুর্ঘটনাসংক্রান্ত নথিপত্র, পারিপার্শ্বিক তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করে সরেজমিন পরিদর্শন করা গেলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। বিশেষ করে জাহাজটি কাটার আগে গ্যাসমুক্তকরণ প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না, নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও কাজের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ।

এখন তাই তদন্তের পরবর্তী ধাপ আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলের সরেজমিন পরিদর্শন। জাহাজের ভেতরের বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি কেটে গেলে সেই পরিদর্শনই হয়তো ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.