নীলফামারীর ডোমারে প্রি-পেইড বিদ্যুৎ মিটার পরিবর্তন ও ডিমান্ড চার্জ-সার্ভিস চার্জ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন গ্রাহকেরা। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ডোমার শহরের বাটারমোড় এলাকায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশের আগে প্রি-পেইড মিটার বাতিলের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাটারমোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির সভাপতি গোলাম কুদ্দুস আইয়ুবের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এতে অনেক গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মিটারে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া এবং অস্বাভাবিক বা ‘ভুতুড়ে’ বিলের অভিযোগও করেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ একটি মৌলিক সেবা। এ সেবা নিতে গিয়ে গ্রাহকদের যেন অযথা হয়রানি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের দাবি, প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থার পরিবর্তে গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
সমাবেশে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য মাহফুজ হোসেন বলেন, ‘জনস্বার্থবিরোধী ও হয়রানিমূলক’ প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ ও সার্ভিস চার্জ বাতিলের দাবি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান ব্যবস্থায় গ্রাহকেরা বিভিন্নভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
অ্যাডভোকেট আসিফ ইকবাল মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও গ্রাহকদের ওপর এর আর্থিক প্রভাব পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগ ও অসঙ্গতি থাকলে দ্রুত তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইলেকট্রিশিয়ান নুরুজ্জামান বাবলাও প্রি-পেইড মিটার বাতিলের দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নানা ধরনের সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
সভাপতির বক্তব্যে গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব বলেন, প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থায় গ্রাহকদের আগে টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে, পরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাঁর মতে, এ ব্যবস্থা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য আর্থিক চাপ ও ভোগান্তি বাড়িয়েছে। তিনি ডিমান্ড চার্জ ও সার্ভিস চার্জ বাতিলসহ প্রি-পেইড মিটার প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে বক্তারা প্রি-পেইড মিটার পরিবর্তন, ডিমান্ড চার্জ ও সার্ভিস চার্জ বাতিল এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান তাঁরা।