× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

৯ শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি

ডেস্ক রিপোর্ট।

১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৩৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষক্রিয়ায় নয় শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় জাহাজের ভেতরে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের প্রাথমিক ধারণা, বিষাক্ত এই গ্যাসের কারণেই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে। তবে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ইয়ার্ডে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাল্টি-গ্যাস ডিটেক্টরের মাধ্যমে জাহাজের ভেতরে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

এসএম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, ঘটনার মূল কারণ হাইড্রোজেন সালফাইডের বিষাক্ততা। আমাদের সমন্বিত কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জাহাজ থেকে হাইড্রোজেন সালফাইড অপসারণ করা হবে।’

বিষাক্ত গ্যাস অপসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, হাইড্রোজেন সালফাইড সাধারণত পানিতে দ্রবীভূত হয়। এ কারণে সমন্বিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পানি দিয়ে জাহাজের ভেতরের অংশ ধুয়ে গ্যাস অপসারণ করা হবে।

এর আগে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুরোনো একটি এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ কাটার সময় জাহাজের বদ্ধ অংশে বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ইয়ার্ডে ৩৪ জন শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে জাহাজের ভেতরে থাকা দুই শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধারে অন্য শ্রমিকেরা এগিয়ে গেলে তারাও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। পরে একে একে নয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের দুই ভাই মনসুর আহমেদ ও নাসির উদ্দিন রয়েছেন। অন্যরা হলেন সানি দাস, পলাশ দাস, রানা মিয়া, হাবিবুর রহমান, খোকন মিয়া, আব্দুল আলিম সুজন ও ১৭ বছর বয়সী মতিউর রহমান সাজ্জাদ।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো এলএনজি জাহাজটির ইঞ্জিন রুমের একটি বদ্ধ ট্যাংক বা অংশে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে সেখানে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। দুজন শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়লে তাদের উদ্ধারে অন্যরা এগিয়ে যান। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া বদ্ধ স্থানে প্রবেশ করায় উদ্ধারকারীরাও গ্যাসে আক্রান্ত হন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কোন ধরনের গ্যাসে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে জাহাজ কাটার আগে সেটিকে সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করার নিয়ম রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজের কিছু ট্যাংকে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত গ্যাস থাকতে পারে। গ্যাসমুক্ত না করে জাহাজ কাটার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি ইয়ার্ডটির নিরাপত্তাব্যবস্থাকে দুর্বল বলে উল্লেখ করেন।

তবে শনিবার বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জাহাজে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড শনাক্ত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এখন এই গ্যাসের উৎস, কীভাবে এটি জাহাজের বদ্ধ অংশে জমেছিল এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.