দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শিল্পনগরীখ্যাত আল্লাহর দর্গা বাজারের প্রধান সড়কের উন্নয়নকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা সড়কটির উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন।
এ উপলক্ষে সকাল ১০টায় আল্লাহর দর্গায় অবস্থিত নুরুজ্জামান বিশ্বাস অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাসহ উপজেলার বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আলোচনা সভা শেষে সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা সড়কের নামফলকের ফিতা কেটে উন্নয়নকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হতো। উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের অনুভূতি দেখা গেছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বাসিন্দারা বলেন, বহু বছর ধরে তারা সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে কাজ শুরু হওয়ায় তারা আনন্দিত। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নত মান নিশ্চিত করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।
কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল করিম বলেন, আল্লাহর দর্গা বাজারের প্রধান সড়কটি ১৮ ফিট থেকে উন্নীত করে ২৪ ফিট করা সহ ঢালাই রাস্তার পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে
আশা রাখছি প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নির্মাণকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করতে সড়ক বিভাগ নিয়মিত তদারকি করবে বলেও তিনি জানান।
সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে এই সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। ৩২ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয়ে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে দৌলতপুর উপজেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, সড়কটির উন্নয়নকাজের উদ্বোধনকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।