ফেনীর দাগনভূঞায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, মারধর, প্রবাসীর স্ত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত ৩০ জুলাই সকালে ৪নং রামনগর ইউনিয়নের সেকান্দরপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার দাগনভূঞা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে
সোমবার (৩ আগষ্ট) দাগনভুঞা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নুর পেয়ারা শিল্পী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে নুর পেয়ারা শিল্পী জানান, তার জেঠাতো ভাই ইমাম হোসেন, মীর হোসেন এবং জেঠা আবদুর রেজ্জাকদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। গত ৩০ জুলাই সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে গাছপালা কাটার চেষ্টা চালায়। এতে বাঁধা দিলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে এবং তার ভাগনী সানজিদা ইয়াসমিনকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এ সময় মীর হোসেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী নুর পেয়ারা শিল্পীর পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। একই সময় তার ভাগনী সানজিদা ইয়াসমিনের একটি চোখে মারাত্মক আঘাত করা হয়। পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় জখমপ্রাপ্তদের উদ্ধার করে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নুর পেয়ারা শিল্পী আরও জানান, এ ঘটনার পর থেকে তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি তার বাবাকে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ সময় তিনি দাগনভূঞা থানা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও তা না নেয়ার অভিযোগ করেন। পরে এ বিষয়ে ৪ দফা দাবি জানান তিনি। দাবি গুলো হলো- ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া,পরিবারটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।