কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ভারতীয় গরুর নিলামের ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নিলাম প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু হওয়া তর্ক-বিতর্ক মুহূর্তেই হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। এতে উপজেলা চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কিছু সময়ের জন্য নিলাম কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে দুই দলের স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ এবং পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে পুনরায় নিলাম সম্পন্ন করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে রৌমারী উপজেলা চত্বরে স্থানীয় কাস্টমস কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে জব্দ করা ১০টি ভারতীয় গরুর নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিলামে অংশগ্রহণ ও এর প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন এবং পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার বিষয়ে জামায়াতের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, "আমরা নিলামে স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছিলেন। তার ভাষ্য, এতে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। কিন্তু সেই দাবি ঘিরেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভবিষ্যতে এমন নিলাম আয়োজনের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি। ভাগবাটোয়ারার বিষয়টি সঠিক নয়।"
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু বলেন, " নিলাম নিয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি কোনো ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করে না। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চলছে।"
প্রত্যক্ষদর্শীরা জামাল, আবির, মানিক ও সোনা মিয়া জানান, দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এককভাবে নিলামে অংশ করে আসছিলেন। কিন্তু এতে হঠাৎ জামায়াতের নেতা-কর্মীরা নিলাম অংশগ্রহণ করলে ক্ষিপ্ত হয় বিএনপির নেতারা। পরে সমঝোতার মাধ্যমে ৩০ শতাংশ ভাগ দিতে রাজি হয় বিএনপি। কিন্তু জামায়াতের লোকজন সমান ৫০ শতাংশ ভাগ দাবি করে। এ নিয়ে এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে । পরে উভয় দলের সিনিয়র নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এক পর্যায়ে থমথমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নিলাম শেষ করা হয়। এতে যুবদল কর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতা ইসরাফিল সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা দর দিয়ে ১০টি গরু কিনে নেন।
এ বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি বড় ধরনের সংঘর্ষে গড়ায়নি। বুধবার বিকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।