সড়ক থেকে পুরোপুরি উঠে গেছে বিটুমিন ও খোয়া। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। ভাঙাচোরা এই রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন, প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ঝিনাইদহ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাগলাকানাই মোড় থেকে গ্রামবাংলা স্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যস্ত সড়কটির বর্তমান চিত্র এটি। শুকনো কিংবা বর্ষা—কোনো ঋতুতেই রেহাই নেই এই পথ দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের।
১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঝিনাইদহ পৌরসভা ১৯৯১ সালে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হলেও নাগরিক সুবিধার অন্যতম প্রধান খাত—ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক যোগাযোগের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে এখনও বঞ্চিত অবহেলিত এ পৌরসভার বাসিন্দারা। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যকর উন্নয়ন ছোঁয়া পায়নি গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষায় হাঁটু সমান কাদা-পানি আর রোদের দিনে ওড়া ধুলাবালিতে চরম নাকাল হতে হচ্ছে পথচারীদের। অনুন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যায়, আর মাঝারি বা ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। জ্যাম হয়ে থাকা ড্রেনের পানি নিষ্কাশনে গতি না থাকায় জনভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।
এই দুর্ভোগের ওপর নতুন মাত্রা যোগ করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বহীনতা। সম্প্রতি পৌরসভা থেকে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ড্রেন থেকে তোলা কাদা ও ময়লা-আবর্জনা সড়কের দুই ধারে স্তূপ করে ফেলে রাখা হয়েছে। তা সময়মতো অপসারণ না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই ওই ময়লা পানি সাধারণ মানুষের পায়ে পায়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এক পথচারী বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার জরাজীর্ণ অবস্থা। ড্রেন জ্যাম হয়ে থাকায় বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা ডুবে যায়।" ঝিনাইদহ শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান এই সড়কটি প্রতিদিন ব্যবহার করেন পাগলাকানাই, কুমড়াবাড়িয়া, গান্না ও মধুহাটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। অথচ সড়কটির এমন বেহাল দশায় নিত্যদিন বাড়ছে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় ও সময়। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও শিক্ষার্থীদের।
পৌরসভার নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরেক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, "ঝিনাইদহ পৌরসভা কী করে তা বুঝতে পারি না। এনারা দেখেও কেন দেখেন না তা-ও বুঝি না! এনাদের লোকজন আসলে কোথায়?"
ঝিনাইদহ পৌরসভার তথ্যমতে, পৌর এলাকায় মোট কাঁচা রাস্তা ৩৫০ কি.মি. ও পাকা রাস্তা ৫১৮ কি.মি. এবং ৩৬২ কি.মি. ড্রেন রয়েছে। এর মধ্যে পাইপ ড্রেন ৩০ কি.মি., ব্রিক ড্রেন ৬৫.৫০ কি.মি., আরসিসি ড্রেন ১৬.৫০ কি.মি. ও কাঁচা ড্রেন ২৫০ কি.মি.। শহরের বেশিরভাগ সড়কের মতোই এই ১ কিলোমিটার সড়কটিরও জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।
জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা প্রসঙ্গে ঝিনাইদহ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো: রাশেদ আলী খান জানান, "পৌরসভার বেশিরভাগ সড়কেরই সংস্কার প্রয়োজন এবং সে অনুযায়ী ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) প্রস্তুত করা হয়েছে এবং খুব দ্রুতই 'ইমিডিয়েট' টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে। পাগলাকানাই রোডসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলো দ্রুততম সময়ে সংস্কার করা হবে।
তবে কর্তৃপক্ষের কেবল মৌখিক আশ্বাসে আর আস্থা রাখতে পারছেন না ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার মর্যাদা কাগজে-কলমে না রেখে, বাস্তবে দ্রুততম সময়ে সড়ক ও ড্রেনেজ সংস্কার করে যাতায়াত স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
