ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার শিমুল কর্মকারের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে নাটোরের গুরুদাসপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন তৌহিদী জনতা। সমাবেশ থেকে অভিযুক্তের বিচার নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চার দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় মাখরাজ মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা-সংলগ্ন শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত মুসল্লি অংশ নেন।
সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— ইসকনকে নিষিদ্ধ করা, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিমুল কর্মকারকে কারাগারে রাখা, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ধর্ম অবমাননার ঘটনায় কঠোর আইন প্রণয়ন।
বক্তারা বলেন, অতীতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অনেক ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয়নি। এ কারণে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। তারা শিমুল কর্মকারের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এর আগে গত ৪ জুলাই রাতে শিমুল কর্মকারের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পবিত্র মক্কা ও মদিনার বিকৃত ছবি প্রকাশের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ শুরু হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমুল কর্মকার গুরুদাসপুর পৌর শহরের গুরুদাসপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি সপরিবারে ঢাকায় বসবাস করেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের গুরুদাসপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুল আহাদ, সহসভাপতি মাওলানা জামিল আহমেদ, মাওলানা মুয়াজ্জাজ নাঈম, আলমগীর হোসাইন ইসলাম, হাফেজ মাওলানা ফরিদুল ইসলাম, মাওলানা তাওহীদুল ইসলাম ও মাওলানা রেজাউল করিম।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনজুরুল আলম বলেন, "শুক্রবার দুপুরে তৌহিদী জনতা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।"