চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার রহমত নগর এলাকায় চাঁদাবাজি ও গুরুতর জখমের একটি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে স্পষ্ট ভিন্নতা।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে মামলা নং-১৬/৩০৩(০৭)২৬-এর এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে রহমত নগর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে মব সৃষ্টি করেন। এতে কয়েকজন আসামি পালিয়ে গেলেও পরবর্তী অভিযানে নাজিম ও রফিক নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, পুলিশের অভিযানের সময় সৃষ্ট আতঙ্কে নুরুন্নাহার (৭০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, পুলিশ বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করলে তিনি ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।
নিহত নুরুন্নাহারের ছেলে মোহাম্মদ আকিব বলেন, “পুলিশ আমাদের বাড়িতে তল্লাশি করতে এলে আমার মা ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্ট্রোক করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন বলেন, “রাতে একজন বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।”
অন্যদিকে, এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ নির্দিষ্ট একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মামলার আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করে সেখান থেকে চলে আসে। পরে তারা জানতে পারেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচটি বাড়ি দূরে এক বৃদ্ধা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ওই বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, পুলিশের উপস্থিতি ও অভিযানের সময় সৃষ্ট আতঙ্কেই নুরুন্নাহার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বৃদ্ধার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। একদিকে পরিবারের দাবি, অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য—দুই পক্ষের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। ফলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।