সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। মেঘালয় পাহাড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যা ও নদীভাঙনের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে মহারশি নদী পরিদর্শনে যান ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো. আল-আমীন। এ সময় তিনি নদীর পানির প্রবাহ, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের উদ্বেগ ও করণীয় বিষয়েও খোঁজখবর নেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল-আমীন বলেন, "ঝিনাইগাতী উপজেলা ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় সেখানে বৃষ্টিপাত হলেই পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত এ অঞ্চলের নদ-নদীতে নেমে আসে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই নদীর পানি বৃদ্ধি পায় এবং অনেক সময় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।"
এদিকে পাহাড়ি ঢলের কারণে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। নদীর প্রবল স্রোত ও পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক স্থানে নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর একেবারে কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙন তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। নদীগর্ভে বিলীন হয় কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নদীশাসন ও ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় নতুন করে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয় হাজারো মানুষকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ি ঢলের পানি আরও বৃদ্ধি পেলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সীমান্তবর্তী এই জনপদের মানুষের প্রত্যাশা, শুধু সাময়িক পদক্ষেপ নয়, বরং মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের জানমাল ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তাহলেই প্রতিবছরের বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙনের ভয় থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলবে।