নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরো সভার হাজীর মার্কেট ও ছেরাজ প্লাজার ২০টি দোকানের মালিক চার বছর ধরে কোনো ভাড়া পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, দোকানগুলো জোরপূর্বক দখল, ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী হাজী আব্দুল খায়ের। তিনি বসুরহাট পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার।
বুধবার (৮ই জুলাই) সকালে নোয়াখালী সাংবাদিক টিভি ফোরামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই লিখিত অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাজী আব্দুল খায়ের জানান, ২০২২ সালে ওয়ারিশি সূত্রে তিনি তার দুই ভাই ও এক বোনের কাছ থেকে ৪ ডেসিমেলে ৮০ পয়েন্ট সম্পত্তি খরিদ সূত্রে পাওয়ার অব এটেরর্নি দলিল মুলে করে সেখানে দোকানপাট নির্মাণ করেন। দোকানগুলো ভাড়া দেওয়ার পর প্রথম ৩ মাস ভাড়াটিয়ারা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেন।
কিন্তু পরবর্তীতে সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাই ও বসুরহাট পৌরোসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী আবুল বাশার, আবুল কাশেম ভুট্টু এবং অলি উল্লা সহ বেশ কয়েকজন তার দোকানগুলো দখলের চেষ্টা চালায়। সেই থেকে গত ৪ বছর ধরে ঐ ২০টি দোকানের কোনো ভাড়া পাচ্ছেন না সম্পত্তির মূল মালিক। ভাড়া চাইতে গিয়ে কয়েক বার শারীরিক হেনস্তার স্বীকার হয়েছেন বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী আব্দুল খায়ের আরও জানান, দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য ভাড়াটিয়া ও দখলদারদের আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও তারা তা তোয়াক্কা করেনি, উল্টো অভিযুক্ত আবুল বাশার, আবুল কাশেম ভুট্টু ও অলি উল্লা তার কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এই বিষয়ে বসুরহাট ব্যবসায়ী সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ করার পর একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিবাদীদের থানায় তলব করে। কিন্তু বিবাদীরা থানায় না গিয়ে উল্টো তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
বর্তমানে নিজের জীবনের নিরাপত্তা, সম্পত্তি উদ্ধার এবং চার বছরের বকেয়া ক্ষতিপূরণ চেয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নং আমলী আদালতে ৯ জনকে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন হাজী আব্দুল খায়ের।
সংবাদ সম্মেলনের শেষপর্যায়ে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জোরপূর্বক দখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও বিনীত ভাবে সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় পিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক কর্মীগন উপস্থিত ছিলেন।