বান্দরবানের রুমা উপজেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা, নির্যাতন ও নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করে যারা বছরের পর বছর দলকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের উপেক্ষা করে সাম্প্রতিক সময়ে দলে যোগ দেওয়া কিছু ব্যক্তিকে নেতৃত্ব ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমাজসেবক বলেন, বর্তমানে রুমা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। তার ভাষ্য, যারা দীর্ঘদিন দলের আদর্শ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, তারাই এখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দলীয় কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন।
রুমা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অংথোয়াইচিং মারমা বলেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর দলে যোগ দেওয়া অনেকের অতীতে বিএনপির কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের ইতিহাস নেই। অথচ বর্তমানে তারাই নেতৃত্বের আসনে থেকে দীর্ঘদিনের কর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, দলের স্বার্থে জীবনবাজি রেখে পরিবারের কথা না ভেবে কেন্দ্র ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। ২০২০ সালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হন এবং চিকিৎসার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। কিন্তু আজ দলের সুসময়ে সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সিংমংহ্লা মারমা (উমং) বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে জনগণের কল্যাণে কাজ করে আসছে। গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে তারা কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। নতুন যারা দলে এসেছেন তাদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, তবে দীর্ঘদিন ধরে যারা ত্যাগ স্বীকার করে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করাই ন্যায়সংগত।
রুমা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং গালেঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য কোকোসিং মারমা বলেন, ৫ আগস্টের আগে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, তাদের পেছনে ঠেলে দিয়ে নতুনদের সামনে আনা হচ্ছে। তিনি জেলা ও উপজেলা নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। কারণ দুঃসময়ের পরীক্ষিত কর্মীরাই একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব অংবাচিং মারমা বলেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে দলের কঠিন সময়ে রুমা উপজেলা থেকে হাতে গোনা ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী নিয়মিত কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। মামলা, হামলা, নির্যাতন ও পারিবারিক নানা প্রতিকূলতা সহ্য করেও তারা দলকে ধরে রেখেছেন। কিন্তু বর্তমানে সুবিধাবাদী কিছু ব্যক্তি দলে প্রবেশ করে নিজেদের বড় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে সংগঠনের মধ্যে বিভক্তির পরিবেশ সৃষ্টি করছেন, যা দলের জন্য অশনিসংকেত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলেন, দুঃসময়ের পরীক্ষিত কর্মীদের বাদ দিয়ে শুধু সুসময়ে দলে আসা ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করা হলে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ আরও বাড়বে এবং সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। তারা জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত ত্যাগী, পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে রুমা উপজেলা বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করা হোক।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত বক্তব্যগুলো সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের অভিযোগ ও মতামতের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।