× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

প্রকল্পের তথ্য চাইলে ইউএনওর দোহাই দিয়ে অনিয়ম ঢাকতে ঘুষ সাধলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা!

​এম. এইচ রুবেল, ঝিনাইদহ

৩০ জুন ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

সরকারি প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য লুকাতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রকাশ্যেই টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন এক ইউনিয়ন পরিষদ কর্মকর্তা। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে।

​অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র নন্দী ওই ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। প্রকল্পের তথ্য ঢাকতে তিনি প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দোহাই দেন এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে পকেটে টাকা গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের ২য় পর্যায়ের সরকারি বরাদ্দে ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রকল্পের তালিকা ও তথ্য নিতে ইউনিয়ন পরিষদে যান। সেখানে গিয়ে তালিকা চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তা জানান, চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো তথ্য দিতে পারবেন না। দাপ্তরিক নিয়ম অনুযায়ী সবকিছুই চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারও (ইউএনও) এমন নির্দেশনা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

​পরে মুঠোফোনে ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ঋতুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তথ্যের ব্যাপারে সহযোগিতা না করে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এখনো কোন কাজই আমরা করিনি। তালিকা দেওয়া যাবেনা, আপনারা তালিকা নিয়ে কী করবেন? আপনি কাজ করবেন ওখানে? তালিকা উপজেলা থেকে নেন।"

​চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক লুকোচুরির পর সাংবাদিকরা যখন পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে আসছিলেন, তখনই ঘটে এক অপ্রীতিকর ঘটনা। প্রকল্পের অনিয়মের খবর যেন গণমাধ্যমে না আসে, সেজন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র নন্দী। তিনি সাংবাদিকদের পথরোধ করে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি প্রকাশ্যেই সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার অপচেষ্টা চালান। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন অপেশাদার ও অনৈতিক কাণ্ডে উপস্থিত সকলেই হতবাক হয়ে যান।

​এদিকে সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়ার পেছনে ইউএনও’র যে নির্দেশনার কথা প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানা গেছে।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র নন্দীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

​এ সকল অভিযোগের ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ মুঠোফোনে বলেন, প্রকল্পের তালিকা না দেওয়ার কোনো নির্দেশনা আমার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। একজন ইউএনও কখনো এমন নির্দেশ দিতে পারেন না। প্রশাসনিক কর্মকর্তা কেন আমার নাম ব্যবহার করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি প্রকল্পের তথ্য লুকাতে চাওয়া এবং সাংবাদিকদের প্রকাশ্যেই ঘুষ সাধার ঘটনাই প্রমাণ করে যে এই প্রকল্পগুলোতে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই অপচেষ্টার নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা উন্মোচনে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.