৬ষ্ঠ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও ভুল চাহিদা, সমন্বিত পদ এবং অনুমোদিত শূন্যপদের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিবন্ধিত শিক্ষকরা দ্রুত রি-সুপারিশ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা শিক্ষা সচিবের নিকট একটি আবেদনপত্রের মাধ্যমে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক অনুমোদিত শূন্যপদ না থাকা, পদ সমন্বিত হয়ে যাওয়া কিংবা ভুল চাহিদার ভিত্তিতে সুপারিশ প্রদানের কারণে তারা গুরুতর প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন।
ফলে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ এবং আর্থিক ক্ষতির মধ্যে দিন অতিবাহিত করতে হচ্ছে তাদের। অনেক ক্ষেত্রে যোগদানের পরপরই পদ অনুপস্থিতি কিংবা এমপিও সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা জানান, তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি, লিখিত আবেদন ও বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত, সন্তোষজনক ব্যাখ্যা কিংবা দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
তারা আরও বলেন, রি-সুপারিশ একটি প্রচলিত ও নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও এর বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা আরও বেশি অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
আবেদনে শিক্ষকরা প্রশাসনিক ত্রুটি, ভুল চাহিদা প্রদান কিংবা পদ সমন্বয়ের দায় মেধাভিত্তিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর বর্তানো উচিত নয় বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দ্রুত ও কার্যকরভাবে রি-সুপারিশ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এছাড়া বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রদান এবং দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে সময়সীমাবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা সচিবের মানবিক ও ইতিবাচক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ৬ষ্ঠ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত নিবন্ধিত শিক্ষকদের ন্যায়সংগত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং তাদের পেশাগত জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।