চলনবিলের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় আত্রাই নদীতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন গুরুদাসপুরের পৌর সদরের চাঁচকৈড় জালহাটা এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ১০০ পিস চায়না দোয়ারী জাল এবং একটি সৌতিজাল জব্দ করে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলনবিল অঞ্চলের আত্রাই নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন গুরুদাসপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম। এছাড়াও গুরুদাসপুর থানা পুলিশের একটি দল এবং উপজেলা মৎস্য ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বাঁশ ও খুঁটির কাঠামো নির্মাণ করে সৌতিজাল স্থাপন করা হচ্ছিল। এসব জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মা মাছ ও পোনা মাছ শিকার করায় হুমকির মুখে পড়ছিল নদীর প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ। একই সঙ্গে নদীর বুকে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনা নৌযান চলাচল ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে আত্রাই নদীর সাবগাড়ি ও হরদমা এলাকার দুটি স্পটে অবৈধ কার্যক্রমের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে নদীতে স্থাপিত একটি অবৈধ সৌতিজাল ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো অপসারণ করা হয়।এ সময় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও চায়না দোয়ারী জাল জব্দ করে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম বলেন, “মা মাছ ও পোনা মাছ সংরক্ষণ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং চলনবিলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধ জাল ব্যবহার করে মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের সুযোগ দেওয়া হবে না।”
চলনবিলের ঐতিহ্যবাহী মৎস্যভাণ্ডারকে রক্ষা এবং নদীর প্রাণপ্রবাহ সচল রাখতে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ জালের দৌরাত্ম্য কমবে এবং নদী ফিরে পাবে তার স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য।