নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইভটিজিং ও ফেসবুকে ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দিয়ে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৭) আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলার প্রধান আসামি মোঃ নাহিদ ওরফে আজিজুল ইসলাম নাহিদকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে র্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত এক প্রেস রিলিজে বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এর আগে সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা এলাকা থেকে র্যাব-১১ ও র্যাব-৭ এর একটি যৌথ দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত নাহিদ নোয়াখালী জেলার হাতিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গুল্যাখালী (বেচু ডুবাইর বাড়ি) এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
র্যাব জানায়, গত ১১ জুন সকালে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ওই ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে ইভটিজিং ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল নাহিদ। একপর্যায়ে সে ভিকটিমের ছবি সংগ্রহ করে তা বিকৃত (এডিট) করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ভিকটিম এর প্রতিবাদ করলে উল্টো তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং বিষ খেয়ে বা গলায় ফাঁস দিয়ে মরার জন্য উসকানি দেওয়া হয়। এই ক্ষোভ ও অভিমানে নিজ বাড়ির টয়লেটে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ওই কিশোরী।
এই ঘটনায় গত ১৩ জুন দণ্ডবিধির ৩০6 ধারায় হাতিয়া থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৩) দায়ের করা হয়, যেখানে নাহিদকে প্রধান আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই আসামি আত্মগোপনে চলে যায়।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এবং র্যাব-৭, সিপিসি-২, হাটহাজারী, চট্টগ্রামের একটি যৌথ আভিযানিক দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৫ জুন দুপুর ৩টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার সরকারহাট বাজারের বালুশাহ মাজার গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে নাহিদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানো হবে।