× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মহারানী হেমন্ত কুমারীর ঢোপকল পেলো স্থায়ী আবাস

ট্রাফিক বিভাগের কর্মীরা হারালো নিজেদের নিবাস

রাজশাহী ব্যুরো:

১৭ জুন ২০২৬, ২০:০৯ পিএম

রাজশাহীর সর্বোচ্চ ঐতিহ্যপূর্ণ স্থান ও স্থাপনার মধ্যে অন্যতম হলো মহারানী হেমন্ত কুমারীর ঢোপকল। রাণী হেমন্ত কুমারীর প্রচেষ্টা ও অনুদানে ১৯৩৭ খ্রীষ্টাব্দে তৎকালিন রাজশাহী পৌরসভাবাসীর জন্য সার্বক্ষণিক বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘পানি সরবরাহ প্রকল্প’র আওতায় ‘মহারাণী হেমন্ত কুমারী ওয়াটার ওয়ার্কস নির্মিত’ হয়। যার অন্যতম নিদর্শণ রাজশাহী শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ঢোপকলগুলো। একসময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় ২০টি ঢোপকল থাকলেও কালের বিবর্তন, নগরায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন, কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা আর উদাসিনতার কারনে বর্তমানে সেই সংখ্যাটি দাড়িয়েছে হাতগোনা কয়েকটিতে।

রাজশাহীর ঐতিহ্যপূর্ণ সেই স্থাপনার স্থায়ী সংরক্ষণকল্পে রাসিক কর্তৃপক্ষ বেশকয়েকটি উদ্যোগ হাতে নিয়েছিল। এরমধ্যে অন্যতম ছিল বরেন্দ্র জাদুঘরে ঢোপকলগুলো প্রদর্শনীর জন্য প্রতিস্থাপন করা। সেনুযায়ী, প্রদর্শনীর জন্য বরেন্দ্র জাদুঘরে দু’টি ঢোপকল বসানো হয়েছিল। নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড় থেকে ডিআইজি অফিস পর্যন্ত প্রদর্শনীর জন্য তিনটি এবং কাজলায় হেরিটেজ রাজশাহীর ইতিহাস আর্কাইভে একটি রাখা হয়েছে। তারই ধারবাহিকতায় রাসিকের (রাজশাহী সিটি করপোরেশন) উদ্যোগে নগরীর একটি ঢোপকলের অস্থিত্ব চিরস্থায়ী করারকল্পে নগরীর দড়িখরবনা মোড়ের আটমূখী রাস্তার সমারহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃক এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নগরবাসির একাংশ। রাজশাহী বিভাগের ঐতিহ্যপূর্ণ ও ইতিহাসমন্ডিত একটি স্থাপনাকে ভবিষ্যত প্রজন্মের ইতিহাস চর্চার স্থায়ী দ্বার উন্মোচন করার মতো বিষয় বলেই মনে করছেন অনেকেই। রাসিক কর্তৃপক্ষও সমজাতীয় উদ্দেশ্য সাধনকল্পেই এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। এমনই বার্তা এসেছে বিভিন্ন গলমাধ্যমের শিরোনামেও। আবার অনেকেই বলছেন ভিন্নকথা। স্থান ও জায়গা নির্বাচন নিয়ে অনেকেই করছেন বিরূপ মন্তব্য।    

 তথ্যসূত্র থেকে জানাগেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে রাজশাহী শহরে পানযোগ্য পানির খুব কষ্ট ছিল। ফলে ছড়িয়ে পড়ে কলেরা-আমাশয়সহ নানা রকম পেটের পীড়া। কিছু লোকের মৃত্যুও ঘটেছিল এসব রোগের জন্য। এই মহামারীতুল্য অবস্থা থেকে রাজশাহীবাসিকে (তৎকালিন পৌরসভাবাসিকে) রক্ষাকল্পে তৎকালিন পৌরসভার চেয়ারম্যান (১৯৩৪-৩৯) রায় ডিএন দাশগুপ্ত রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় নগরবাসীকে সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেন। সিদ্ধান্ত নেয়া হয় রাস্তার মোড়ে মোড়ে ‘পানির কল’ স্থাপন করা হবে। ১৯৩৭ সালের আগস্ট মাসের কোনো এক দিনে মিনিস্ট্রি অব ক্যালকাটার অধীনে ‘রাজশাহী ওয়াটার ওয়াকর্স’ নামে পানি সরবরাহ ও বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ব্যয় করা হয় আড়াই লক্ষাধিক টাকা। এই কাজে নগরীর নামকরা ধনী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করা হয়। সেই সূত্র ধরেই মহারানী হেমন্ত কুমারী নিজেই এককভাবে দান করেন প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। বিশাল অঙ্কের একক অনুদানের কারণে রাজশাহী জেলা বোর্ডের দান করা জমিতে মহারানী হেমন্ত কুমারীর নামেই ‘ওয়াটার ওয়ার্কস’ স্থাপিত হয়। কালক্রমে এগুলো হেমন্ত কুমারী ঢোপকল নামেই পরিচিত হতে থাকে।

প্রচন্ড তাপদাহ আর ঝড়-বৃষ্টির মতো বৈরী আবহাওয়াতে রাস্তার মধ্যখানে কিংবা একাংশে স্থাপিত হয় ট্রাফিক পুলিশ বক্স। দড়িখরবনাস্থ চৌরাস্তার মধ্যখানে থাকা ট্রাফিক পুলিশ বক্সটির স্থলেই প্রতিস্থাপন করা হয়েছে ঢোপকলটি। যার কারনে, ট্রাফিক পুলিশের নিবাসতুল্য বিশ্রামাগার সমতুল্য স্থাপনাটি আজ ধ্বংস হলো চিরতরে। নাম প্রকশ। না করার শর্তে ট্রাফিক পুলিশে কর্মরতদের অনেকেই মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, স্থানটির ব্যবহারিক পরিচিতির বিষয়টি বিবেচনা করলে; সেখানে দাড়িয়ে থেকে ট্রাফিক পুলিশ যানচলাচল নিয়ন্ত্রনসহ রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামমুক্ত রাখেন।

ট্রাফিক বক্স একাধিক কাজে সহায়ক হিসেবে বেশ কার্যকর ও প্রয়োজনীয় স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হতো বলে জানান দায়িত্বরতদের অনেকেই। 

দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কর্মরতদের অনেকেই নিজেদের অভাব আর কষ্টের বহিঃপ্রকাশ করতে নারাজ। তবে, অকোপটে অনেকেই মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা প্রচন্ড তাপদাহ আর প্রতিকূল আবহাওয়ায় দায়িত্বপালনকালে একটি ট্রাফিক বক্স বা কংক্রিটের তৈরি কোন ছাতা ও সমজাতীয় কোন স্থাপনার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক। 

ট্রাফিক পুলিশরা সড়কে দায়িত্ব পালনকালে নিজেদের জামা-কাপড়, ছাতা, দুপুরের খাবারের টিফিন বক্স সহ অন্যান্য ব্যবহার্য্য বস্তু উক্ত ট্রাফিক বক্সে নিরাপদে রেখে নিশ্চিন্তে নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারতেন। এখন সেটি ভেঙ্গে দিয়ে তদস্থলে ঢোপকল প্রতিস্থাপনের কারনে নিজেদের নিবাসতুল্য স্থানটি তারা আজ হারালেন। 

ঢোপকলটির চারিপাশে তৈরি করা নিরাপত্তা বেষ্টনি, রডের রং আর পরিচিতি বর্ণনার বিষয়বস্তু অপূর্ণ রেখেই তড়িঘড়ি করে নতুন স্থাপনা উন্মুক্তের বিষয়টি নিয়ে বেশ বিরূপ মন্তব্য করেছেন নেটিজেনরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই করছেন বিরূপ মন্তব্য। ঢোপকলের ইতিহাসটাও লেখা হয়নি সংক্ষিপ্তাকারে। 

নগরীর সচেতন মহল এবিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, প্রদর্শনীর জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে রাজশাহী ওয়াসা ভবনের ভেতরে ও বাইরে কয়েকটি ঢোপকল রাখলে মন্দ হতোনা।

সাগরপাড়া বটতলা মোড়, শিরোইল দোসর মন্ডলের মোড়, উপশহর-দড়িখরবনা (রাসেল চত্বর) মোড়, ঘোষপাড়া মোড়, হেঁতেম খা রাজিব চত্বর, কাশিয়াডাঙ্গা মোড়, রানীবাজার নতুন মোড়, বারো রাস্তার মোড়, কল্পনা হলের মোড় সহ নগরীর অনেকস্থান এখনো রয়েছে স্থাপনাসহ চত্বরবিহনীবস্থায়। 

নগরীর সচেতন ব্যক্তিদের অনেকেই বলেন, কিছুদিন পর পর স্থান ও মোড়ের নাম পরিবর্তনের কারণে বেশ বিভ্রান্তির মধ্যে পরতে হয়। সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রাসিকের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে নগরীর সিটি বাইপাস বহরমপুর মোড়ে ঘোড়ায় টানা টমটম গাড়ির কোচোয়ান (চালক) ও যাত্রীসহ একটি স্থাপনা তৈরি করেছিলেন। স্থাপনা তৈরির পর থেকে স্থানটির নতুন নামকরণ করা হয়েছিল ঐতিহ্য চত্বর। স্থানীয়রা ডাকতেন ঘোড়া চত্বর নামে। নগরায়নের কারণে সেই টমটম গাড়ির স্থাপনা ভেঙ্গে সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে ফ্লাইওভার। যার কারণে সেই নতুন নামকরণের বিষয়টি চিরতরে বিলিন হবার পথে। সর্বশেষ রাসিক মেয়র নগরীর বাটার মোড়ের নামটাও পরিবর্তন করেছিলেন। সেটাও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। একইভাবে নগরীর দড়িখরবনা-কাদিরগঞ্জ গ্রেটার রোডের স্থানটির নাম নগর ভবন মোড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও ঢোলকপ প্রতিস্থাপনের কারনে স্থানটির নতুন নামকরণ করা হবে ঢোপকল মোড় বলে জানাগেছে। ভবিষ্যতে এখানেও যদি ফ্লাইওভার, সড়ক উন্নয়ন বা অবকাঠামোগত কোন উন্নয়নের ফলে এই ঢোপকলটি পূর্বের ন্যায় আবারো ভেঙ্গে ফেলতে হয় কিংবা অপসারণ করতে হয় তখন এই নতুন নামের তকমাটাও হারিয়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য অনেকের

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.