কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর-নাজিরহাট সীমান্তে দিনভর উত্তেজনা, পুশইন-পুশব্যাক নাটকীয়তা এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টানাপোড়েনের অবসান ঘটেছে। অবশেষে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হেফাজত থেকে উদ্ধার হওয়া ১২ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিশু জয়নাব খাতুনকে ফেরত এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (১৩ জুন) রাতে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪৩-এর সাব-পিলার ৩-এস সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি-বিএসএফের এক সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠক শেষে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা জয়নাব খাতুন ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মধ্য কাশিপুর ঘগোয়ারপাড় গ্রামের জামাল উদ্দিন ও নাজমা বেগমের মেয়ে। সে স্থানীয় মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্র, সীমান্তবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের বরাতে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯৪৩-এর সাব-পিলার ৩-এর নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে বিএসএফ সদস্যরা শিশুটিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশব্যাক) চেষ্টা করে। তবে বিজিবি শিশুটির পরিচয় ও জাতীয়তা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গ্রহণে আপত্তি জানায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুরে সীমান্তে দুই বাহিনীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিকেল পর্যন্ত পুশইন-পুশব্যাক নিয়ে টানাপোড়েন চলার পর, একপর্যায়ে বিএসএফ শিশুটিকে আবার ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, সকাল থেকে নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজতে খুঁজতে সীমান্ত এলাকায় আসেন জয়নাবের মা নাজমা বেগম। সেখানে এসে তিনি জানতে পারেন যে বিএসএফের হেফাজতে একটি কন্যাশিশু রয়েছে। বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করে তিনি নিশ্চিত হন যে আটক শিশুটি তারই মেয়ে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হলে তারা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে এবং শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করার দ্রুত উদ্যোগ নেয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে জয়নাব স্কুলে যাওয়ার সময় খাবার খেতে চেয়েছিল। কিন্তু খাবার প্রস্তুত না থাকায় তাকে স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে সে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে আবার খাবার চাইলে, তার বাবা তাকে স্কুল শেষ করে এসে (পুরোপুরি ছুটি হলে) খেতে বলেন। এতে বাবার ওপর প্রচণ্ড অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় জয়নাব।
জয়নাবের মা নাজমা বেগম বলেন, “আমরা বুঝতেই পারিনি যে মেয়েটা অভিমান করে সীমান্তের দিকে চলে যাবে। পরে জানতে পারি সে ভারতের ভেতরে চলে গেছে। মেয়েকে ফিরে পেয়ে আমরা খুবই খুশি।”
তার বাবা জামাল উদ্দিন জানান, অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে জয়নাব অজান্তেই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার সেউটি এলাকায় প্রবেশ করে। সেখানে দায়িত্বরত বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করেছিল।
বাংলাদেশি শিশু আটকের খবর পেয়ে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার মো. ইব্রাহিমের নেতৃত্বে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিটব্যাপী একটি সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে জয়নাবকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ১১টার দিকে তাকে বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পতাকা বৈঠকে উপস্থিত থাকা কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকে আমি উপস্থিত ছিলাম। শিশুটিকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ উদ্বেগের পর পরিবারটি স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।”
কাশিপুর বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার মো. ইব্রাহিম জানান, শিশুটি ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে পড়েছিল। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
