নোয়াখালীর সেনবাগে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন ফাহিমকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল জেলা শহর। হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে নিহত ফাহিমের সহপাঠী, স্বজন ও এলাকাবাসী।
রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে গঠনার পরপরই হত্যার সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত মাদককারবারী হারুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড, আর তাতেই থমকে গেছে একটি পরিবারের স্বপ্ন। নোয়াখালীর সেনবাগে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করার জেরে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন ফাহিমকে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন শত শত মানুষ।
মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সুপার মার্কেটের সামনে রাস্তা অবরোধ করে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন ফাহিমের সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর আইডিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, সেনবাগের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর ও আবুল খায়েরসহ একটি চক্র মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। পাঁচ-ছয় দিন আগে মাদক কারবারের প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় তরুণেরা পাহারা বসালে ক্ষিপ্ত হয় মাদক চক্রটি।
গত বুধবার সন্ধ্যায় ফাহিম তার নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে ওত পেতে থাকা হারুন ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মানববন্ধন, বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ শেষে হত্যাকারীদের ফাঁসি নিশ্চিত করা পর্যন্ত পরবর্তীতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়। এরপর নিহত ফাহিমের মামা মোশাররফ কন্টাক্টর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নোয়াখালী জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট ফাহিম হত্যাকারীদের অবিলম্বে ফাঁসির রায় ঘোষণা করে রায় কার্যকর করার আবেদন জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষনা করেন।