ময়মনসিংহের ত্রিশালে উপজেলা পরিষদ পুকুর সংলগ্ন আহাম্মদ সরকার সড়ক বন্ধের উদ্যোগের প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সড়কসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সড়কটি বন্ধ না করার দাবি জানিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রায় অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এলাকাবাসী ওই সড়ক ব্যবহার করে আসছেন। সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হলে আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। এছাড়া দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, মসজিদে যাতায়াতকারী মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, এটা আমাদের বাপ-দাদার আমলের রাস্তা। আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করছে। ইউএনও একতরফাভাবে এই রাস্তা বন্ধ করতে পারেন না। প্রয়োজন হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব। এই রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে।”
ফারুক আহমেদ ও আবু রায়হান অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা পরিষদ পুকুরকে ঘিরে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তারা দাবি করেন, একসময় এলাকাবাসী ওই পুকুরে সাঁতার কাটতে পারলেও বর্তমানে মাছ চাষের কারণে সেটি সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। পুকুর খননের ফলে সড়কের একটি অংশ হেলে পড়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, এটা আমাদের বাপ-দাদার আমলের সড়ক। এটা ইউএনও বন্ধ করতে পারেননা। আমরা মানবো না। আমরা আন্দোলনে যাবো। এই সড়ক দিয়ে দুটি স্কুলের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, মসজিদ ও বাসাবাড়ির লোক যাতায়াত করে। উনার একতরফা সুবিধার জন্য সড়ক পরিবর্তন আমরা করতে দিবোনা।
ঐ এলাকার ফারুক আহমেদ, আবু রায়হান বলেন, এই পুকুর ঘিরে নতুন নতুন ইউএনও নানা প্রকল্প আনে। আমরা ছোট বেলা এই পুকুরে সাতার কাটতাম এখন মাছ চাষ করে তা বন্ধ করেছে। সড়ক নতুন করে পাকা হলেও পুকুর খনন করায় সড়ক হেলে পড়েছে এতে ইউএনওর মজা হয়েছে। নতুন প্রকল্প এনে খরচ করবে। পৌরসভার কত সড়ক আছে হেটে চলা যায়না তা সংস্কার করেনা। এই পুকুরে কি দেখেছে এখানে সরকারী অর্থের অপচয় করে।
স্থানীয় জাবাদুল হক খান বলেন, এই পুকুর যেন সোনার হরিন। গত ইউএনও মাছ চাষ প্রকল্প দেখিয়ে এক কোটি টাকার উপরে খরচ করেছে। কোন ফায়দা হয়নি। এইটা আরও আমাদের জন্য দুভোর্গ হয়েছে। খনন করার ফলেই হেলে পড়েছে, প্রয়োজন ছিল না খননের। এখানে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন প্রকল্প দ্বারা সরকারি অর্থ অর্থ খরচ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে ইউএনওর বাসায় কিছু কাজ হয়েছে। কয়েক লক্ষ টাকার কাজ হয়েছে, যেগুলোর না-কি কোনো টেন্ডারই নাই। এখন শুনতেছি ওইগুলোর টেন্ডার হবে। কাজ হওয়ার পর টেন্ডার হয় কিভাবে? আমি বলবো, এই সড়ক যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়।
মাহফুজুর রহমান কবীর বলেন, পৌরসভা একোয়ার করে কোনো রাস্তা করে নাই। মানুষের কাছ থেকে জায়গা নিয়ে রাস্তা করা হয়েছে। উনি যদি পৌরসভার দায়িত্বে(প্রশাসক) থেকে এরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তবে পৌরসভার জন্য আর কেউ জায়গা দিবে না।
ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি স্থানীয় বাসিন্দা ফয়েজ উদ্দিন সরকার বলেন, এ রাস্তা বন্ধ কইরা দিয়া কেইল্লেগ্যা আরেকটা রাস্তা করুইন লাগে, কেইল্যাগ্যা সরকারি টেহা অপচয় করুইন লাগে? রাস্তা সংলগ্ন দীঘি খনন কইরা অর্থ আত্মসাৎ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকি বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সড়কটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবাসিক এলাকায় সড়কটিতে নিয়মিত ভারী যানবাহন চলাচল এবং দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছিল। এছাড়া সড়কটির পাশে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসভবন থাকায় নিরাপত্তাজনিত বিষয় বিবেচনা করে সড়কটির নকশা ও চলাচল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
