× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

৭৬ লাখ টাকার সড়কেই গলদ! নিম্নমানের ইট-বালু দিয়ে চান্দহরের এইচবিবি রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ; ঠিকাদারের স্বীকারোক্তি, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

মাহমুদুল হাসান, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:

০৬ জুন ২০২৬, ২১:৪৫ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন সড়ক। কাজ শেষ হতে এখনো বাকি। অথচ নির্মাণকাজ চলমান অবস্থাতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল ও দেবে যাওয়ার ঘটনা। এতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চকপালপাড়া থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন এইচবিবি সড়ক প্রকল্পের মান ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে ১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭৬ লাখ টাকা। কাজের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স আরাভ এন্টারপ্রাইজ। প্রায় এক মাস আগে কাজ শুরু হলেও ইতোমধ্যে সড়কের বিভিন্ন অংশে ইট বসে যাওয়া এবং দেবে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি স্থানে ইটের সলিং অসমান হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ইটের নিচের বালু সরে যাওয়ায় ফাঁপা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গাইডওয়ালের ঢালাইয়েও মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করায় হাতে আঘাতেই সরে যাচ্ছে ইট।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় পরিমাণ বালু না দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। গাইডওয়ালের ঢালাইয়ে সিমেন্টের অনুপাতও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামল উদ্দিন বলেন, কাজ শেষ হওয়ার আগেই যদি সড়কের এই অবস্থা হয়, তাহলে কয়েক মাস পর কী হবে? সরকারি টাকা খরচ করে নিম্নমানের কাজ করা হলে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরেক বাসিন্দা মো. আসিফ বলেন, আমরা চাই প্রকল্পের ব্যবহৃত ইট, বালু ও সিমেন্টের মান পরীক্ষা করা হোক। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাভ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আবুল হোসেন বলেন, কিছু দুই নম্বর ইট রয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড মেনেই কাজ করা হচ্ছে। কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক বেপারী মো. কামাল দাবি করেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে কয়েকটি স্থানে বালু সরে গেছে। কাজ এখনো শেষ হয়নি। কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, কাজ চলমান অবস্থায় যদি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও তা আংশিক স্বীকার করেন, তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের তদারকি কতটা কার্যকর ছিল?

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটির কারিগরি মান, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় কোটি টাকার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.