প্রতি বছরই মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউসের পিছনে ঈদের আগের দিন সৌদির সাথে মিল রেখে নিজের অনুসারীদের নিয়ে ঈদ উদযাপনের নামে ফিৎনা আর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে আসছেন মৌলভীবাজারের তথাকথিত পীর মাওফিক চৌধুরী। এই নিয়মে ২০০৬ সাল থেকে তিনি ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
তাঁর এই অদ্ভুত কাণ্ডের জন্য গত বছরের ২০২৫ সালের এপ্রিলে শহরে ব্যাপক উত্তেজনা আর ক্ষোভ শুরু হয়। গঠিত হয় সর্বদলীয় ইসলামী ঐক্য সংগ্রাম পরিষদ। ঈদ উদযাপনের নামে এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে শুরু হয় নজিরবিহীন আন্দোলন। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের মাধ্যমে দেশে সরকারি নিয়মের বাহিরে ঈদ উদযাপন করবেন না মর্মে তিনটি শর্তে লিখিত মুচলেকা দেন মাওফিক চৌধুরী। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে ক্ষমাও চান তিনি।
তবে বছর যেতে না যেতে নিজের দেয়া কথা রাখেননি তিনি। মুচলেকা দিয়েও ফের নিজের দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করেন তিনি।
এবারও অতীতের মুচলেকাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফের সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মাওফিক চৌধুরীর ইমামতিতে মৌলভীবাজার শহরে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার(২৭মে) সকাল ৭টায় মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় ঈদের ওই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ওই ঈদের নামাজে অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে তারা পশুও কোরবানী দেন।
এ দিকে মুচলেকা দিয়ে সৌদির সাথে মিল রেখে ঈদুল আজহা উদযাপনের কথা বলা হলেও বাংলাদেশের মাটিতে সকাল ৭টায় যখন মাওফিক চৌধুরী ঈদের নামাজ পড়ছেন তখন সৌদি-বাংলাদেশ অন্তত আড়াইঘন্টা সময়ের ব্যবধান। তখনো সৌদিতে সূর্য উদিত হয়নি। অর্থাৎ এখানেও প্রতারণার ফাঁদ।
ওদিকে সৌদির সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের ব্যাখ্যা দিয়ে মাওফিক চৌধুরীর দাবি, আমরা ২০০৬ সাল থেকে হজরত মহানবী (সাঃ) যেভাবে হিসেব করেছেন চন্দ্র তারিখে, সেই চন্দ্র মাসের দিন তারিখ ও মাসের হিসেব অনুযায়ী কোরআন ও হাদিস মোতাবেক ঈদ উদযাপন করে আসছি।
মৌলভীবাজারের বিশিষ্ট আলেম ও দারুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি শামছুজ্জোহা বলেন, এটা নিয়ে অনেক আন্দোলন করেছি, প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়েছি, তবুও এবার আমাদেরকে ধুঁকা দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আসিফ মহিউদ্দিন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানতে হবে, তবেই বলতে পারবো।