× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সরকারি গোডাউনের পাঁচ ট্রাক চালের তদন্ত নিয়ে ধোয়াশা; সন্দেহের তীড় কর্মকর্তাদের দিকেও

রাজশাহী ব্যুরো

২৩ মে ২০২৬, ২১:৪০ পিএম

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা খাদ্য গুদামে (এলএসডি গোডাউন) পাঁচ ট্রাক চাল প্রবেশ ও সরবরাহের ঘটনা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। গত ১৬ মে ঘটে যাওয়া সেই অনিয়মের প্রেক্ষিতে স্থানীয় 'ওএমএস' (ওপেন মার্কেট সেলস) ডিলার ও স্থানীয় ব্যবসায়িরা এই অনিয়মের বিচার চেয়ে পরেরদিন ১৭ মে রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি ঘটিত হলেও; কিছু কর্মকর্তার অনিহা ও স্বজনপ্রীতির জন্য সেই তদন্ত প্রতিবেদন অভিযুক্তের প্রতিকূলে না গিয়ে অনুকূলেই থাকবে বলেই ধারণা করছেন স্থানীয় ওএমএস ডিলাররা। এবিষয়ে সরেজমিনে একাধিক কর্মকর্তার বক্তব্য ও মন্তব্যে তেমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল বা খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয়) কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়মবহির্ভূত পন্থায় কুষ্টিয়া জেলার খাজানগর চালের মোকাম থেকে রাজশাহীর নওহাটাস্থ সরকারি খাদ্য গুদামে আনা হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে স্থানীয়রা চাল আনলোডের সময় উক্ত এলএসডি গোডাউনের প্রধান ফটকের সামনে দাড়িয়ে থাকা ৫টি ট্রাক আটক করেন। তাদের এই সন্দেহের তীড় আরো বেশি বেগবান হয়; উক্ত গোডাউনে কর্মরত একজন নৈশ প্রহরীর নামে চাউলের চালান আসায়। ট্রাক চালানটিতে নৈশ প্রহরী মাসুমের নাম উল্লেখ থাকায় নওহাটা পৌর এলাকার ‘ওএমএস’ ডিলাররাসহ স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে ট্রাকগুলো আটক করে চালান ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখতে চান। ঘটনা বেগতিক দেখে রাজশাহীর একজন গণমাধ্যমকর্মীর সহায়তায় পবা থানাকে চালের ট্রাক অপহরণের তথ্য দিয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পায় অভিযুক্তরা। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার ১৬ মে। বাংলাদেশের বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরের ধান ও চাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মাসুম ট্রেডার্স’ থেকে রাজশাহীস্থ নওহাটা এলএসডি গোডাউনে চাল আনলোড করার জন্য পাঁচটি ট্রাকে ৩০ কেজি ওজনের সর্বমোট ৬৬৭ টি বস্তা আনা হয়েছিল। এই কাজে নৈশ প্রহরীর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারি জড়িত আছেন বলেও জানান স্থানীয়রা।

এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে গত ১৭ মে’২০২৬ ইং তারিখে সংক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী-ডিলার ও স্থানীয়দের পক্ষে রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ‘ওএমএস’ ডিলার মো. মমিনুল ইসলাম মিলন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী মো. মাসুম দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উক্ত এলএসডি গোডাউনে ধান ও চাল সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেই চাল সরবরাহের ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা একজন চাকুরীজীবি বা গোডাউনে কর্মরত কোন ব্যক্তির জন্য নিয়ম বহির্ভূত বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। নওহাটা পুরাতন বাজারের ওএমএস ডিলার মমিনুল ইসলাম মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, রোববার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ৩০ কেজি ওজনের ৬৬৭ বস্তা করে মোট পাঁচটি ট্রাকে চাল গুদামে আনলোড করা হচ্ছিল। এ সময় তিনিসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে ট্রাকগুলো আটক করে চালানসহ অন্যান্য কাগজপত্র দেখতে চান। পরে ট্রাক চালানে ‘মাসুম ট্রেডার্স’, খাজানগর, কুষ্টিয়ার নাম উল্লেখ পাওয়া যায় এবং প্রতিটি ট্রাকে একই পরিমাণ চালের বস্তা ছিল। চালানপত্রে গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী মাসুমের স্বাক্ষরও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সেই চালান রশিদের একটি কপি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও সংরক্ষিত আছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান ও চাল প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষক ও মিলমালিকদের অগ্রাধিকার থাকার কথা। কিন্তু অন্য জেলা থেকে চাল এনে তা গুদামে প্রবেশ করানো হচ্ছে, যা নিয়মবহির্ভূত।

অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে এলএসডি গোডাউনের দায়িদ্বে থাকা খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সিকদার বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য দিতে গড়িমসি করেন। একাধিক পন্থায় জানার চেষ্টা করলে তিনি কিছুটা রাগান্বিত হয়ে বলেন, কাউকে মার্ডারার বললেই কি তিনি খুনি হয়ে যান। বিষয়টি আরো একটু পরিষ্কার করে জানতে চাইলে তিনি সেখানে উপস্থিত থাকা দুজন কর্মচারিকে দেখিয়ে বলেন, ওরা দুজন সকল সংবাদিক ও অন্যদেরকে ম্যানেজ করছে। তাদের সাথে আপনারা অফিসের বাইরে যান সবকিছু ওরা ঠিক করে দেবে। কর্মরত কোন ব্যক্তি নিজনামে সরকারি গোডাউনে চাউল রাথতে পারে কিনা এবং তদসাথে তদন্তের অগ্রগতির খবর জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজের দাম্ভিকতা দেখান।  

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহীর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোহন আহমেদ বলেন, “অভিযোগ পাবার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছিল।

 বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তদন্তের জন্য খাদ্য গুদামে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের সূত্র থেকে জানাগেছে, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের একজন কারিগরি কর্মকর্তা (জেলায় সংযুক্ত) ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের দুজন খাদ্য পরিদর্শক-কে এই ঘটনার সরেজমিন তদন্তভার দেয়া হয়েছিল। সে মোতাবেক তদন্ত কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে যথানিয়মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। 

জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোহন আহমেদ কিছুটা রেগে গিয়ে বলেন, ট্রাকগুলোকি গোডাউনের ভেতরে ছিল, নাকি বাইরে। গুদামের প্রধান ফটকের সামনে দাড়িয়ে থাকাবস্থায় স্থানীয়রা সেগুলো জব্দ করে আপত্তি তোলার কারনে ট্রাকগুলো গুদামের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি; গণমাধ্যমকর্মীর এমন কথার প্রেক্ষিতে ডিসি (ফুড) কিছুটা দাম্ভিকতার সাথে বলেন, আমি অভিযোগ পেয়ে তদন্ত তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠণ করে দিয়েছিলাম। তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেটি যাচাই বাছাই সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। গোডাউনে কর্মরত কোন কর্মচারি কিংবা কোন ব্যক্তি কি নিজ নামে চাউলের মোকাম দিয়ে সরকারি গোডাউনে চাল রাখতে পারেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকল বিষয় যাচাই বাছাই করেই আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.