× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

তিনতলার বেলকনি থেকে পড়ে গৃহকর্মী হালিমার মৃত্যু, ড্রেনের উপর ছিল রক্তের স্তুপ

মো. আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার

২৩ মে ২০২৬, ১৪:৩৪ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

একযোগ ধরে মৌলভীবাজার শহরের শাহমোস্তফা সড়কের সিএমবি কলোনির হুসেনা ভিলায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম চৌধুরীর বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করছিল হালিমা বেগম (১৫) নামের কিশোরী বয়সী এক গৃহকর্মী। ওই বাসায় থাকেন সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বৃদ্ধ আমিনুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী সৈয়দা জহুরা আক্তার। আমিনুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের উবাহাটা গ্রামে। চাকরির সুবাধে এই দম্পতি ১৯৯৫ সাল থেকে হুসেনা ভিলায় ভাড়া থাকেন। মূলত তাদের সেবাযত্ন আর বাসার যাবতীয় কাজের জন্য ২০১৬ সাল থেকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল হালিমা। তবে গৃগকর্মী হলেও আমিনুল দম্পতি তাদের সন্তানের মতোই স্নেহ করতেন হালিমাকে। নিত্যদিনের সঙ্গী হালিমাকে এই দম্পতি একেবারেই আপন করে নিয়েছিলেন। হালিমাও তাদের আদর স্নেহ পেয়ে নিজের মা-বাবার কাছে যেতে চাইতো না। আমিনুল ইসলাম চ্যেধুরী ও স্ত্রী সৈয়দা জহুরা আক্তারের বর্ণনায় উঠে আসে এমন তথ্য। 

হালিমা বাসার অভ্যান্তর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শেষে প্রতিদিন ময়লা ফেলত নিচতলা দিয়ে সড়কের পাশের ড্রেনের উপর নির্দিষ্ট স্থানে। প্রতিদিন এভাবে ময়লা ফেললেও ব্যত্যয় ঘটে শুক্রবার দুপুরে। এদিন বৃষ্টি থাকায় সে বাসার ময়লা ফেলতে বেছে নেয় তিনতলার ছাদের বেলকনি। সেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় পা পিছলে বেলকনিতে ধাক্কা খেয়ে উপর থেকে ছিটকে পড়ে যায় একেবারে সড়কের পাশের ড্রেনের উপর। তখন তাঁর কিছুটা জ্ঞান থাকলেও পুরো মাথা থেতলে যায়। আশপাশের লোকজন তখন পাশের মসজিদে জুমার নামাজরত। এমন সময় পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে বাসার লোকজন সেখানে গিয়ে দেখেন হালিমার নিথর দেহ পড়ে আছে। মাথা থেকে অঝোরে ঝরছিল রক্ত।    

গত শুক্রবার (২২ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের শাহমোস্তফা সড়কের সিএমবি কলোনিতে ঘটে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা। নিহত কিশোরী হালিমা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল গ্রামের আক্কাস আলীর মেয়ে। ৫ বোন আর ২ ভাই এর মধ্যে হালিমা তৃতীয়। মা-বাবা পরিবার নিয়ে থাকেন সিলেট শহরে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ড্রেনের উপর যেখানে হালিমার নিথর দেহ পড়েছিল সেখানে বিশাল রক্তের স্তুপ জমে আছে। সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন রক্তের স্তুপের দিকে নজর দিচ্ছেন, কেউবা ছবি তুলছেন। তবে হালিমা যে বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন ওই বাসাটি তালাবব্ধ। প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন ঘটনার পর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় হালিমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন আমিনুল ইসলাম দম্পতি। সেকারণেই বাসাটি তালাবদ্ধ। 

প্রতিবেশী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী জিসান জানান, উনি বারান্দায় ময়লা ফেলতে এসেছিল, তখন বৃষ্টি হওয়ায় জায়গাটা পিচ্ছিল ছিল। যখন ময়লা ফেলছিল তখনই পরে গিয়ে দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে যায়। তখন সেখানে কেউ ছিলনা, অনেক্ষণ পড়েছিল সে। পরবর্তীতে নামাজ শেষ হলে লোকজন সেখানে জড়ো হতে থাকে। 

গৃহকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম চৌধুরী জানান. আমরা যখন বাসার ভিতরে তখনই তাঁর পড়ে যাওয়ার খবর পাই। তিনি বলেন, বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে পা পিছলে বেলকনি দিয়ে পড়ে এ ঘটনা ঘটে। 

আমিনুল হক চৌধুরীর স্ত্রী সৈয়দা জহুরা আক্তার বলেন, আমি আজু শেষ করেছি মাত্র নামাজের জন্য, তখন আমি তাকে নাস্তা খাওয়ার জন্য বলি। সে নাস্তা না খেয়ে বাহিরে ময়লা ফেলার জন্য যে যাবে সেটা আমি ধারণা করতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, সে প্রতিদিন নিচতলা দিয়ে সবসময় ময়লা ফেলত। তবে আজ বৃষ্টির কারণে তিনতলার বেলকনি দিয়ে ময়লা ফেলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায়। তখন পাশের প্রতিবেশিরা জানান পড়ে যাওয়ার খবর, দৌড়ে গিয়ে দেখি সে পড়ে আছে। আমরা তাকে নিজ সন্তানের মতো দেখতাম। সে ২০১৬ সাল থেকে আমাদের বাসায় কাজ করত।  

এদিকে হালিমা আক্তারের মা মেয়ে নিহতের খবর পেয়ে স্বামী সহ ছুটে আসেন মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ফটকের সামনের একপাশে সাদা কাপড়ে আড়াল করা হালিমার নিথর মরদেহ। তখন হালিমার শরীর বেয়ে অবিরত রক্ত ঝড়ছিল। সে দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে ঠিক উল্টো পাশে বসে মা ফরিদা বেগমের বিলাপ। বিলাপ করতে করতে ফরিদা বেগম বলেন, আমরা সিলেট শহরে থাকি। আমার মেয়ে নিহতের খবর পেয়ে এখানে ছুটে আসি। তিনি বলেন কেউ বলছে বেলকনি থেকে পড়ে মারা গেছে, কেউ বলে ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে,আমরাতো দেখিনি কীভাবে মারা গেছে। 

ওদিকে গৃহকর্মী হালিমার হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে আমিনুল ইসলাম দম্পতি ছাড়াও আশপাশের প্রতিবেশীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনার পর বাসার গৃহকর্তা স্থানীয়দের সহায়তায় গৃহকর্মী ওই কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাঁর মাথার খুলি ও কান ফেটে গেছে। হাসপাতালে নিয়ে আসার পরই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, শুক্রবার রাত থেকে হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রাখা ছিলো। শনিবার দুপুরে ময়না তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।  


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.