চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীসহ চারজন আহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা মুখী লেইন প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। নারী, শিশু ও রোগীবাহী যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে স্কুল ছুটির পর বাঁশবাড়িয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের পাশ দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার কারণে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মহাসড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুনতাহা ইসলাম (১৪), নওরিন আক্তার (১৪) ও হৃদি আক্তার (১৪) রাস্তা পারাপারের সময় আবুল খায়ের গ্রুপের ‘মার্কস দুধ’ বহনকারী একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের ধাক্কা দেয়। এ সময় স্থানীয় বাঁশ ব্যবসায়ী রাকিব (২৫)ও আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত মুনতাহা ইসলাম, হৃদি আক্তার ও রাকিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে মুনতাহা ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। অপর আহত নওরিন আক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।
দুর্ঘটনার পর মুনতাহা ইসলামের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের ঢাকা মুখী লেইনে বাঁশ ও কাঠ ফেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ অবরোধে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবরটি গুজব বলে নিশ্চিত করা হলে বিক্ষোভকারীরা সড়ক থেকে সরে যান এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল হক বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করেছিল। পরে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।”