দেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতি, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে রাতভর ব্যাপক তল্লাশি ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত নবাগত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম’র নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সমন্বয়ে এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় একযোগে বিশেষ তল্লাশি অভিযান ও যৌথ টহল পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয় এবং সন্দেহজনক যানবাহন, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশের একাধিক টহল টিম নির্জন ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিবিড় নজরদারি চালায়। রাতভর পুলিশের এমন তৎপরতায় মহাসড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপা:) সিরাজুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর, মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার কর্মকর্তাসহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নিয়মিত টহল, চেকিং ও যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি দমনে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনের তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা জানান, সম্প্রতি মহাসড়কে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের আশঙ্কায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি, কঠোর তল্লাশি ও রাতভর টহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবাগত পুলিশ সুপার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে পরিচালিত এ ধরনের অভিযান মহাসড়কে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।