× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে কুড়িগ্রামে ঢাক ঢোল পিটিয়ে জমির তখন বুঝিয়ে দিলেন আদালত

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম।

১৫ মে ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

কুড়িগ্রাম সদরে দীর্ঘ ৬৫ বছর পর জমি আদালতের মাধ্যমে ফিরে  পেয়েছে  প্রকৃত মালিক আব্দুস সাত্তার গং। বুধবার ( ১৩ই মে) ঢাক ঢোল পিটিয়ে জমির মালিক আব্দুস সাত্তার গংদের বুঝিয়ে দেন আদালতের প্রতিনিধি দল।স্থানীয়রা জানান আদালতের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে এসে জমির পরিমাপ করেন। পরে লাল নিশানা গেড়ে জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন করেন।

কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন ৪৭১/০৮ (কুড়ি) এর মোতাবেক  আদেশে বিচারক আসাদুজ্জামান আদেশে উল্লেখ করেন বাদী পক্ষ মৃত আলেফ উদ্দিনের  পুত্র আব্দুস  সাত্তারের বৈধ মালিকানা বিদ্যমান থাকায় এবং বিবাদী বছির উদ্দিনের জবাব দাখিলের জন্য সময়ের যৌক্তিকতা না থাকায় তা না মঞ্জুর করা হয়। নালিশী  জমি বাদী পক্ষের বৈধ মালিকানা হিসাবে প্রতিয়মান হওয়ায় নালিশী  জমিতে ইতিপূর্বে গৃহীত রিসিভার প্রত্যাহার করা হয় এবং ওই জমি আব্দুস সাত্তার কে হস্তান্তর করার জন্য সহকারী ভুমি কমিশনারকে নির্দেশ দিলে বুধবার (১৩ মে) বিকালে কুড়িগ্রাম সদরের পৌর এলাকার চরুয়া পাড়ায় বাদী পক্ষকে নালিশি জমির দখল বুঝে দেন সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম। মামলার বাদী পক্ষ আব্দুস সাত্তারের বাড়ি কলেজ পাড়ায়। আর বিবাদী বছির উদ্দিনের বাড়ি পুরাতন শহরের গুয়াতি পাড়ায়। বছির উদ্দিন মারা গেছেন। ওয়ারিশ হিসেবে তার ছেলেরা মামলায় প্রতিপক্ষ ছিলেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী বুধবার বিকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি সার্ভেয়ার এবং পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে নালিশি জমিটি আলেপ উদ্দিনের ওয়ারিশ আব্দুস সাত্তার গংদের মালিকানায় দখল স্বত্ব বুঝে দেন এসিল্যান্ড। এসময় মৃত বছির উদ্দিনের ওয়ারিশরা উপস্থিত ছিলেন না। তবে জমিটির জিম্মাদার হিসেবে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, লাল পতাকা উড়িয়ে সাত্তার গং কে জমির দখল স্বত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এলাকার উৎসুক লোকজন জড়ো হয়ে রাষ্ট্রীয় রীতি উপভোগ করে। সুত্রমতে পঞ্চাশের দশকের কথা। ফুফাতো ভাইয়ের কাছে ১৩৫ টাকায় ৯ শতক জমি বন্ধক রেখেছিলেন আলেপ উদ্দিন। বন্ধকী টাকা শোধ করলেও জমি ফেরত দেননি ফুফাতো ভাই বছির উদ্দিন। উভয় পক্ষের দ্বন্দ্বে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে জমির জিম্মা চলে যায় টাউন চেয়ারম্যানের (বর্তমান পৌর মেয়র) কাছে। চেয়ারম্যান সেই জমি স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় দেন।জমির আইনি দখল বুঝে পেতে ১৯৬১ সালে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী আলেপ উদ্দিন।

কিন্তু সুরাহা হওয়ার আগেই ১৯৭২ সালে তার মৃত্যু হয়। সেই মামলার সূত্র ধরে পরবর্তীতে বাদীর ছেলে আব্দুস সাত্তার গং আইনি লড়াই শুরু করেন। নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত, আরজি-আপিল চলতে থাকে। অবশেষে দীর্ঘ ৬৫ বছর আইনি লড়াই শেষে বুধবার নিজেদের জমি ফেরত পেয়েছেন বাদী পক্ষ। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উত্তরাধিকার। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে পৈত্রিক জমির দখল স্বত্ব বুঝে পাওয়ায় বেজায় খুশি আব্দুস সাত্তারসহ চার ভাই। ৯ শতক জমির আইনি লড়াই হলেও সরেজমিন তাদেরকে ৬ দশমিক ৬৮ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জমি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছু জমি ছেড়ে দিতে হলেও সন্তান হয়ে পিতার জমি ফিরে পাওয়ায় ছেলেরা সন্তুষ্ট।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.