× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সীতাকু‌ণ্ডে মহাসড়কের পাশে শতবর্ষী পুকুর ভরাট, নিরব ভু‌মিকায় প্রশাসন

এম জামশেদ আলম, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

০৯ মে ২০২৬, ১৩:২৭ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলাজুড়ে একের পর এক পুকুর, দীঘি ও প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাটের ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা ও প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে প্রকাশ্যেই চলছে জলাধার দখল ও ধ্বংসের মহোৎসব। দিন-রাত নির্বিচারে মাটি, বর্জ্য ও স্ক্র্যাপ ফেলে ভরাট করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

সর্বশেষ ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম ও কেডিএস ডিপোর সামনের প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি বৃহৎ পুকুর ভরাটের অভিযোগ নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পুকুরটি চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে ধাপে ধাপে স্ক্র্যাপ ও শিল্পবর্জ্য ফেলে ভরাট করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ভরাট অংশে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ কাভার্ডভ্যান পার্কিং। সেখানে প্রতিদিন প্রতিটি গাড়ি থেকে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে এমন প্রকাশ্য পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি চক্র এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, আর প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এই পুকুর শুধু একটি জলাধার নয়, এটি আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। এখন সেটি বাণিজ্যিক স্বার্থে ধ্বংস করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছুই রাখা হচ্ছে না।”

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এভাবে জলাশয় ধ্বংস অব্যাহত থাকলে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দেবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আল আমিন বলেন, জলাশয় ভরাটের ফলে জীববৈচিত্র্য দ্রুত ধ্বংস হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পানি সংকট ও অগ্নিনির্বাপণসহ জরুরি সেবায় মারাত্মক ভোগান্তি সৃষ্টি হবে।

আইন অনুযায়ী, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন–২০০০ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন–১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০ ও ২০২৩) অনুযায়ী কোনো ধরনের জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান থাকলেও বাস্তবে এসব আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে সীতাকুণ্ড উপজেলাজুড়ে প্রায় অর্ধশত পুকুর ও জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সীতাকুণ্ড অচিরেই ভয়াবহ পরিবেশ সংকটের মুখে পড়বে। এ অবস্থায় দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জলাধার রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাশয় নির্বিচারে ভরাটের ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত পানি সংগ্রহে মারাত্মক সংকট তৈরি হচ্ছে। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে চরম বেগ পোহাতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হ‌লে তি‌নি এ বিষ‌য়ে কিছুই জা‌নেন না ব‌লে জানান। 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.