চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা জোরদারে গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান বিনিময়ের লক্ষ্যে এক গবেষণা শেয়ারিং ও লার্নিং এক্সচেঞ্জ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স কক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিপ (SEEP)-এর উদ্যোগে আয়োজিত “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা অন্তর্দৃষ্টি ও লার্নিং এক্সচেঞ্জ কর্মশালা”-য় সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন আনন্দ-সিপ প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ এম. এ. কুদ্দুছ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহিবল্লাহ।
এছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুল্লাহ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: কল্লোর বড়ুয়া, সমবায় কর্মকর্তা আঞ্জমান বেগম, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সমর রঞ্জন নাথসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং স্থানীয় পর্যায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের গবেষণা বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সিপ-এর মিল অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম। টেকনিক্যাল সেশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. হোসাইন আল মাহবুব “কোস্টাল বাংলাদেশে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, ব্যবস্থাপনা ও প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম মূল্যায়ন: চকরিয়া ও সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রেক্ষাপট” শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।
উপস্থাপনায় উপকূলীয় অঞ্চলে বিদ্যমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয় এবং সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সিপ-এর বিডিজি–১০৪২ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়, যা উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সহনশীলতা উন্নয়নে কাজ করছে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আয়োজকরা জানান, কর্মশালায় প্রাপ্ত সুপারিশসমূহ ভবিষ্যতে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।