সাতক্ষীরায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের আম ভাঙা ও বাজারজাতকরণ। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ফিংড়ি গ্রামে চাষি আবু সাইদ হোসেনের বাগানে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ আম ভাঙার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক।
আবহাওয়া ও মাটির গুণগত বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সাতক্ষীরার আম আগে পাকে। তবে বেশি দামের আশায় অনেক চাষি কাঁচা আম পেড়ে ফেলেন—এমন প্রবণতা ঠেকাতে আগেই আম ভাঙার নির্ধারিত সময়সূচি বা ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করে প্রশাসন। সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ ও বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ শুরু হলো।
এবার আমের উৎপাদন ভালো হওয়ায় সন্তুষ্ট চাষিরা। গুণগত মান নিশ্চিত করতে বছরজুড়েই তারা বাগানে পরিচর্যা করেছেন। তবে বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশা রয়েছে তাদের মধ্যে। চাষিদের অভিযোগ, বাজার সিন্ডিকেটের কারণে আমের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে না, ফলে তারা কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হন। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, সাতক্ষীরার আম আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে কৃষি বিভাগও সক্রিয় রয়েছে। ইউরোপের পাশাপাশি এবার চীনে আম রপ্তানির প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন।
তবে জেলার বড় একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে হিমাগারের অভাব। সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় দ্রুত আম বিক্রি করতে বাধ্য হন চাষিরা, যার ফলে বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব বাড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় হিমাগার স্থাপনের পাশাপাশি আম প্রক্রিয়াজাত করে দ্রুত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, আগামী ১৫ মে হিমসাগর, ২৭ মে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন আম্রপালি আম ভাঙা শুরু হবে। চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ মেট্রিক টন হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।