বরিশালের উজিরপুর উপজেলা-এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক বৃদ্ধা ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (০৫ মে ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ব্যস্ত জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুরের ব্যস্ত সময়ে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরিশালগামী হানিফ পরিবহন-এর একটি যাত্রীবাহী বাস অত্যন্ত দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে চলছিল। বাসটি জয়শ্রী এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা পারাপারের সময় দুই পথচারীকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় তারা ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। উপস্থিত লোকজনের ভাষ্যমতে, বাসটির গতি এতটাই বেশি ছিল যে চালক নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন।
দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের দোকানদার, পথচারী ও স্থানীয়রা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাদের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোকসোনা ইয়াসমিন (৬৩) ও শিশু আরফা (৭)-কে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রোকসোনা ইয়াসমিনের স্বামী মৃত কাজী পান্নু মিয়া এবং শিশু আরফার পিতা রুবেল কাজী। তাদের বাড়ি উপজেলার জয়শ্রী এলাকায়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশু আরফা পশ্চিম জয়শ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর একজন নিয়মিত ছাত্রী ছিল। প্রতিদিনের মতো ওইদিনও ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিল সে। কিন্তু বাড়ি ফেরার সেই স্বাভাবিক পথই তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়। তার বাবা রুবেল কাজী মালয়েশিয়ায় প্রবাসে থাকায় পরিবারের ওপর এই শোক আরও গভীরভাবে আঘাত হেনেছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পরিবারটি অত্যন্ত সাধারণ এবং এই দুর্ঘটনা তাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও দ্রুত উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং বাসটি জব্দ ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও সচেতনতা বাড়ানো না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।