× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পরিবর্তনের চাবিকাঠি মানুষ, মানসিকতা ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ

রাইহান কবির সিফাত

০২ মে ২০২৬, ২০:৪৫ পিএম

রাষ্ট্রের পরিবর্তন নিয়ে আমাদের আগ্রহ, প্রত্যাশা এবং হতাশা—সবকিছুই যেন এক অদ্ভুত চক্রে আবর্তিত হয়। একসময় আমরা আশাবাদী হই, নতুন নেতৃত্বের আগমনে স্বপ্ন দেখি; আবার কিছুদিন পর সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় বাস্তবতার কঠিন দেয়ালে। তখন শুরু হয় অভিযোগ, সমালোচনা, আর দোষারোপের এক অন্তহীন ধারাবাহিকতা। কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমরা একটি মৌলিক প্রশ্ন প্রায়ই এড়িয়ে যাই, রাষ্ট্রের এই অবস্থার জন্য আমরা নিজেরা কতটা দায়ী?

বাস্তবতা হলো, একটি রাষ্ট্র কেবল শাসক বা সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত কোনো যান্ত্রিক কাঠামো নয়; এটি একটি জীবন্ত সত্তা, যার প্রাণশক্তি আসে তার জনগণের কাছ থেকে। জনগণের চিন্তা-ভাবনা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং দায়িত্ববোধই রাষ্ট্রের প্রকৃত চরিত্র নির্ধারণ করে। তাই রাষ্ট্রের উন্নয়ন কিংবা অবনতি, দুটোর পেছনেই মানুষের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আমরা প্রায়ই বলি,ভালো নেতা নেই। সঠিক নেতৃত্বের অভাব কিংবা নীতিনির্ধারকরা ব্যর্থ। কিন্তু এই নেতারাই তো আমাদের সমাজ থেকেই উঠে আসে। তারা ভিন্ন কোনো গ্রহের মানুষ নয়। যদি সমাজের ভেতরে অসততা, দুর্নীতি, অসহিষ্ণুতা এবং স্বার্থপরতা গভীরভাবে প্রোথিত থাকে, তাহলে সেই সমাজ থেকে উঠে আসা নেতৃত্বও সেই একই বৈশিষ্ট্য বহন করবে—এটাই স্বাভাবিক। ফলে শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, যদি না আমরা আমাদের নিজস্ব মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে পারি।

বর্তমান সমাজে আমরা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করি, সহনশীলতার অভাব এবং মতের অমিলকে শত্রুতা হিসেবে দেখার মানসিকতা। ভিন্নমতকে গ্রহণ করার পরিবর্তে আমরা তাকে দমন করতে চাই। এই প্রবণতা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক সম্পর্ক এবং এমনকি শিক্ষাঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে একটি সুস্থ, যুক্তিনির্ভর ও সহনশীল সমাজ গড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এর পাশাপাশি রয়েছে নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়টি। ছোট ছোট অনিয়মকে আমরা অনেক সময় গুরুত্ব দিই না। হোক তা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করা, লাইনে না দাঁড়ানো, কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে অসত্যের আশ্রয় নেওয়া। কিন্তু এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনিয়ম একসময় বৃহৎ দুর্নীতির রূপ নেয়। আমরা যখন নিজেরা নিয়ম মানতে অনাগ্রহী, তখন অন্যের কাছে নিয়ম মেনে চলা প্রত্যাশা করা একধরনের দ্বিচারিতা।

এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধুমাত্র পুঁথিগত জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের চর্চা। একটি শিক্ষিত সমাজ তখনই প্রকৃত অর্থে উন্নত হয়, যখন তার মানুষ কেবল জ্ঞানী নয়, বরং সচেতন, সহানুভূতিশীল এবং ন্যায়পরায়ণ হয়।

তবে পরিবর্তনের পথ কখনোই সহজ নয়। এটি সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়। কিন্তু এই পরিবর্তনের শুরু হতে পারে খুব ছোট পরিসরে।নিজের পরিবার, নিজের আচরণ এবং নিজের দায়িত্ববোধের মধ্য দিয়ে।

একজন ব্যক্তি যখন নিজেকে সৎ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে, তখন সে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আর এই ব্যক্তিগত পরিবর্তনগুলোর সম্মিলিত ফলই একসময় বৃহত্তর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়।

আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন—রাষ্ট্র কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়; এটি আমাদেরই প্রতিফলন। আমরা যেমন হবো, আমাদের রাষ্ট্রও তেমনই হবে। তাই কেবল সমালোচনা করে না, বরং আত্মসমালোচনা এবং আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়েই আমরা একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনের পথে এগিয়ে যেতে পারি।

পরিশেষে, পরিবর্তনের জন্য আমাদের দূরে তাকানোর প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন নিজের ভেতরে তাকানো। যখন আমরা নিজেরা দায়িত্বশীল, নৈতিক এবং সচেতন হয়ে উঠব, তখনই রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবে রূপ নেবে। কারণ শেষ পর্যন্ত—রাষ্ট্রকে গড়ে তোলে মানুষ, আর সেই মানুষই পারে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে।   

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.