নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সি শিশু হোসাইন তার সমবয়সি কিশোর বন্ধুদের দ্বারা নির্মমভাবে হত্যা শিকার হন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেল খাটার কৌতূহল থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিহত হোসাইন তার বাবার সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করত। গত ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরবর্তীতে জানা যায়, ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দেওয়া ও মাদক সেবনকারী কয়েকজন কিশোর তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করে।
পুলিশ সুপার আরো জানান, ঘটনার দিন সাইফুল, তানভীর ও ইউনূস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়’ আর সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হোসাইনকে টার্গেট করে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল তাদের আরো তিন বন্ধু রাহাত, হোসাইন ও ওমর। পরে সবাই মিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এদিকে গত ২৪ এপ্রিল হোসাইনের লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৫ এপ্রিল প্রথমে ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করে।
এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আরো পাঁচ কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন এজাহারভুক্ত, তদন্তে আরো ২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে মামলার এজাহারনামীয় ১ নাম্বার আসামি ইয়াসিন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখনও একজন পলাতক রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।