রাজশাহী-ঢাকা রুটে বন্ধ থাকা বাস চালু করা নিয়ে টানা দুই দিন ধরে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। গত ২২ ও ২৩ এপ্রিল ঘটে যাওয়া সেই অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কারণে অবশেষে থানায় হয়েছে বিস্ফোরক আইনে মামলা। থানায় করা এজাহারে তালিকাভুক্ত আসামী করা হয়েছিল ১৫ জনকে। আর অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছিল ৬০/৭০ জনকে। মামলার বাদী শাজাহান আলী। গত ২৪-৪-২০২৬ ইং তারিখে আরএমপি’র বোয়ালিয়া মডেল থানায় শাজাহান বাদী হয়ে মামলটি করেন তিনি। পরবর্তীতে মামলাটি রাজশাহী ডিবি-তে বলে জানান বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ রবিউল ইসলাম। সংঘর্ষে জড়ানো উভয়পক্ষের একাধিক ব্যক্তি ইতোমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তারা।
গত ২২ এপ্রিল সন্ধ্যার পর রাজশাহী মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখিকে মারধর করে ইউনিয়ন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় শ্রমিকদের একাংশ। পরদিন ২৩ এপ্রিল বিকেলে পাখি তার সমর্থকদের নিয়ে কার্যালয়ের দখল নিতে গেলে সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রথমদিন হাতাহাতি হলেও দ্বিতীয় ঘটেছে ককটেল বিস্ফোরণসহ গাড়ি ও টার্মিনাল সংলগ্ন বিভিন্ন শোরুম ও দোকাপাট ভাংচুরের মতো ঘটনা। মামলার এক নাম্বার আসামী করা হয় রফিকুল ইসলাম পাখিকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেই জানান, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলেও ২৩ এপ্রিলের ঘটনায় হয়েছে বিস্ফোরক মামলা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সেই মামলাকে কেন্দ্র করে টার্মিনালে আবারো উত্তোজনা বিরাজ করতে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ঢাকা বাস টার্মিনালের আশেপাশে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ সদস্যরা। প্রতিটি বাস ও অন্যান্য যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করছে প্রশাসন। জানতে চাইলে সেখানে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ অফিসার জানান, মামলা ও দুপক্ষের একাধিক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা গ্রেফতার হবার কারণসহ বিষয়টি যেহেতু এখনো উত্তপ্তবস্থায় আছে তাই জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে টার্মিনালের আশেপাশে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। টার্মিনালে প্রশাসনের সদস্যদের উপস্থিতির কারনে আশেপাশের এলাকায় বিরাজ করছিল বেশ থমথমেবস্থা। টার্মিনাল ঘিরে নজরদারি বাড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।