ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়া মাত্রই রোগী ও তাদের স্বজনদের ঘিরে ধরছেন বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। রোগীর অনুমতি ছাড়াই মোবাইল উঁচিয়ে প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলার এই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় রীতিমতো বিপন্ন হচ্ছে রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা। বিশেষ করে নারী রোগীরা এ ঘটনায় চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও ইনডোর থেকে কোনো রোগী বের হওয়া মাত্রই ৪-৫ জন রিপ্রেজেন্টেটিভ তাঁকে ছুটে এসে ঘিরে ধরছেন। জানা গেছে, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিপণন বিভাগের নির্দেশে তারা এই প্রেসক্রিপশনের ছবি সংগ্রহ করেন। তবে অসুস্থতা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে হাসপাতালে আসা মানুষের কাছে এই আচরণ চরম বিড়ম্বনা ও যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগীর স্বজন বলেন, "চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়া মাত্রই কোম্পানির প্রতিনিধিরা একপ্রকার ঘিরে ধরে প্রেসক্রিপশন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অসুস্থতা নিয়ে আমাদের চরম অস্বস্তির কথা জানিয়ে বারবার নিষেধ করার পরও তারা জোরপূর্বক ছবি তুলতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।"
হুমায়ন কবির সুমন নামে এক ব্যক্তি জানান, অপরিচিত কারো অনুমতি ছাড়াই হুটহাট প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করে। বিশেষ করে নারী রোগীদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর। হাসপাতালে মানুষ নানা উৎকণ্ঠা আর ব্যস্ততা নিয়ে আসেন, সেই মুহূর্তে ছবি তোলার জন্য প্রতিনিধিদের অনবরত পীড়াপীড়ি রোগী ও স্বজন উভয়কেই চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা: মো: কামরুজ্জামান মুঠোফোনে সংবাদ সারাবেলা কে বলেন, "কোনো রিপ্রেজেন্টেটিভ যদি জোরপূর্বক প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলতে চায়, তবে ভুক্তভোগীরা যেন তাদের ছবি তুলে আমার কাছে পাঠান। আমি তাদের সরাসরি পুলিশের হাতে সোপর্দ করার ব্যবস্থা করব।
সচেতন মহলের মতে, কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, সাধারণ রোগীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে রিপ্রেজেন্টেটিভদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এখন জরুরি। মূলত সাধারণ মানুষের এই বিড়ম্বনা লাঘবে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই এখন সময়ের দাবি।